আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
শহরাঞ্চলে
বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে দেদারছে। এসব ভবন নির্মাণে নিয়ম না মানার কারণে কখনো কখনো
রাজউক কর্তৃক নির্মাণাধীন ভবনের অংশবিশেষ ভেঙ্গেও দেয়া হচ্ছে। এরপরেও বহুতল ভবন নির্মাণে
নিয়ম না মানার এক ভয়ঙ্কর প্রতিযোগীতায় যেন লিপ্ত রয়েছেন কিছু অসাধু জমির মালিক ও বিভিন্ন
নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়ম-নীতিকে “থোরই কেয়ার” করছেন তারা। নিয়ম
না মানা এসব ডেভেলপার কোম্পানীর যথাযথ কাগজ-পত্রাদি, ভবন নির্মাণে আস্থা রাখার মত সঠিক
স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও রাজউক অনুমোদন রয়েছে কী না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে জনমনে।
পুরান ঢাকার
হাজারীবাগ মৌজাস্থিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা মেলে এ ধরনের নিয়ম না মেনে কাজ চলতে থাকা
বেশ কিছু নির্মাণাধীন ভবনের। এমনও দেখা গেছে যে, ৩ ফুট প্রশস্ত লম্বা-সরু গলি ঘেঁষে
দাঁড়িয়ে থাকা সীমানা দেয়ালের উপর বাঁশের খুটি ঠেকনা দিয়ে তার উপর নির্মাণাধীন ১০ তলা
ভবনের প্রথম তলার ছাদ ঢালাইয়ের সাটারিং এর কাজ করা হচ্ছে। যা দেখেই বুঝা যাচ্ছে, ১০
তলা ভবনের জন্য যে পরিমান জায়গা ছাড়ার নিয়ম রয়েছে, তা “দূর কা বাত,” সাধারনভাবে আলো-বাতাস
চলাচলেরও জায়গা ছাড়া হয়নি। সম্মুখভাগে কম-বেশী ১০ ফুট প্রশস্ত সরকারি রাস্তা থাকলেও
ভবন নির্মাণে জায়গা ছাড়ার নিয়ম মানা হয়নি। ফলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী
সেটব্যাক রুলস ব্যহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। এতে করে হুমকির মুখে রয়েছে এসব এলাকার জনজীবন।
আবহাওয়াবিদ
ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ঢাকা একটি জনবহুল শহর। এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের
জায়গা ও কর্মসংস্থান করতে গিয়ে প্রচুর অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। গাছপালা কমছে। গরম
থেকে বাঁচতে মানুষ এসি ব্যবহার করছে। পরিবেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম দায়ী
গায়ে-গায়ে লেগে থাকা ভবন অবকাঠামো। এর ফলে যেকোনো সময়ে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়।
ভবন নির্মাণে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। “এখন যারা বাড়ি করতেছে, যাদের বাড়ি কমপ্লিট হয়
নাই, তাদেরকে আমাদের (রাজউক) নকশার বাইরে এক চুল ছাড় দিব না।” সম্প্রতি রাজউকের এই
হুঁশিয়ারিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঝুকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সুযোগ সন্ধানীরা। এক
শ্রেণির মুনাফালোভীরা মানছে না কোনো নিয়ম-নীতি। রাজধানীর হাজারীবাগ মৌজাস্থিত বিভিন্ন
এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনগুলোর এসব অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই। বিস্তারিত পড়ুন পরের সংখ্যায়।