শাহ্আলমঃ
ফ্যাসিবাদী ও সৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকেই সরকারী কর্মকর্তাদের যত অপকর্মের খবর বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
তার মধ্যে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের দুর্নীতি ছিল যেনো আকাশচুম্বী, আর এই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুর্নীতির বরপুত্র সৈয়দ মোঃ হাবিবুর রহমান (উপ- পরিচালক)'র দুর্নীতি আর অনিয়মসহ নানা ফিলিস্তি উঠে আসে বার্তা বিচিত্রার অনুসন্ধানে।
ভদ্রবেশি এই দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এর অবকাঠামো নির্মাণের বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেট তছরুপ করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে একাধিক অভিযোগ আসে আমাদের হাতে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় গড়েছেন আলিশান বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যাংক ব্যালেন্স।
বার্তা বিচিত্রার অনুসন্ধানে জানা যায় যে, দুর্নীতিবাজ এই হাবিবুর রহমান, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলীর সাথে একজোট হয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় লুটেছেন প্রকল্পের শত শত কোটি টাকা।
অভিযোগ রয়েছে হাবিবুর রহমান গংদের দুর্নীতির সব খবর জেনে যাওয়ায় তারই অফিসের অ্যাকাউন্ট সেকশনের সৎ কর্মকর্তা সিরাজ কে তার চাকরীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই এই হাবিব চক্রের যোগসাজশে চক্রান্ত করে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠান হয় তাকে। বিশেষ সূত্রে জানা যায় যে, ঐ পদে এখন হাবিবুর রহমান নিয়োগ দিয়েছেন মুরাদ নামের এক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে মুরাদই এখন সৈয়দ হাবিবুর রহমানের দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অন্যতম দুর্নীতিবাজ সাবেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেনের সাথে মিলে দুর্নীতিবাজ এই অর্থ উপ- পরিচালক সৈয়দ হাবিবুর রহমান লুটেছেন শত কোটি টাকা।
দুর্নীতির রাজ যোটক জাকির-হাবিব জুটি হার মানিয়েছেন, বেনজির কিংবা ছাগল কাণ্ডের মতিউরকেও। দুর্নীতিবাজ হাবিবুর রহমানের আপন বড় ভাই কাশেম, বিগত ফ্যাসিস্ট এর দোসর আওয়ামী লীগ নেতা। ২০১৮ সালে রাতের ভোটের নির্বাচনে, সংসদীয় আসন-১৫- এ তার বড়ভাই কাশেম এমপি হওয়ার আশায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। কাসেমের নেতৃত্বে দুর্নীতিবাজ হাবিবের অর্থায়নে কাফরুলে ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে মিছিল মিটিং করে এলাকার দখল নেয়ার চেষ্টা করেন।
শতকোটি টাকার দুর্নীতি করেও নিরবেই অবসরে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ এই হাবিবুর রহমান। নাম প্রকাশ না করা সর্তে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, এই ধুরন্ধর দুর্নীতিবাজ হাবিব, অবসরে গেলে এমনিতেই তিনি চলে যাবেন লোকচক্ষুর অন্তরালে।
বিগত সরকারের আমলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অভিযোগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বর্তমান সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, দুর্নীতি করে অবসরে গেলেও ছাড় পাবেন না সরকারি কোনো কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে সৈয়দ হাবিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি তার মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন যে, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বানোয়াট বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।
দুর্নীতিবাজ হাবিবুর রহমানের বিলাসী জীবন ও নামে বেনামে অবৈধ সম্পদ ও অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে বিস্তারিত থাকছে আগামী সংখ্যায়।