টাকা দিলেই চলার ছাড়পত্র! টিআই ম্যানেজেই চলছে রাজধানীর অবৈধ সিএনজি

Date: 2025-05-24
news-banner

‘সিএনজি সিন্ডিকেট’ দ্বিতীয় পর্ব:

– নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, বাসাবো, গোড়ান, খিলগাঁও ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন যে হারে ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ সিএনজি অটোরিকশার দৌরাত্ম্য চলছে, তা এক প্রকার ‘নিয়মিত চাঁদা বাণিজ্যে’ পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে সরাসরি ট্রাফিক পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে।

গত পর্বে আমরা দেখিয়েছিলাম কীভাবে প্রশাসনের নীরবতা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এবার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মূলত টিআই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) ও কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালকের ভাষ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—“টিআই স্যারকে টাকা দিলে কোন ঝামেলা হয় না। আগে ২০০-৩০০ টাকা দিলেই চলতো, এখন সাংবাদিক ভাইয়েরা নিউজ করছেন, তাই ৫০০-৭০০ টাকা করে দিতে হয়।”

‘মাসিক চুক্তি’র গোপন চিত্র

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এলাকাভেদে চালকদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে টাকা তোলা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ট্রাফিক কর্মকর্তার কাছে। ফলে মাঝে মাঝে গুটিকয়েক ডাম্পিং বা মামলা হলেও, মূলত ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ নাটক চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যদি প্রশাসন সত্যিকারের অভিযান চালাতো, তাহলে এই সিএনজিগুলো একদিনও রাস্তায় নামতে পারতো না। এটা একটা সিন্ডিকেট। কে কোথায় টাকা নিচ্ছে, কার পেছনে কে আছে—সবাই জানে, কিন্তু মুখ খোলে না।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশ বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি করলেও সরেজমিনে চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র বলছে, “আমরা নিয়মিত চেক করছি।” অথচ এলাকাবাসী বলছে, প্রতিদিন চোখের সামনেই অসংখ্য অচল সিএনজি রাস্তায় চলছে।

বাসাবোর এক বাসিন্দা বলেন, “প্রশাসন চাইলেই এক সপ্তাহে সব বন্ধ করতে পারে। কিন্তু কেউ বন্ধ করতে চায় না। কারণ এখানে অনেকের পকেট গরম হচ্ছে।”


পরিবহন বিশ্লেষক মো. সাইফুল হক বলেন, “এটি একটি ‘স্ট্রাকচারাল কারাপশন’। এর বিরুদ্ধে লড়তে হলে শুধু অভিযান নয়, প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সরকারের পক্ষ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক দেওয়া হলেও রাজধানীর রাস্তায় যেভাবে অবৈধ যানবাহন প্রশাসনের ছত্রছায়ায় চলছে, তা এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। জনগণের প্রশ্ন—টিআই ও অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কবে হবে? কবে শেষ হবে এই চাঁদাবাজির উৎসব?

সিএনজি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শুধু নিউজ করলেই হবে না, চাই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, চাই দায়ীদের শাস্তি। না হলে রাজধানীর এসব রাস্তায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়বে, আর শৃঙ্খলা নামক শব্দটি কেবল বইয়ের পাতায় রয়ে যাবে।

(চলবে…)

Leave Your Comments