শাহ্ আলমঃ
রাজধানীর মিরপুর এ গত ১৮ তারিখে মিরপুর -৬ এর হেরিটজ কন্সট্রাকশনের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ চলাকালীন সময়ে দেয়াল ধ্বসে পরে পাশের বাড়ীর টিনের চালা ভেদ করে ঘুমন্ত শিশু রাইসার মৃত্যু ও তার নানা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
মিরপুর মডেল থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, মিরপুর ৬ নম্বরের দুই নম্বার রোডের বি ব্লকে হেরিটেজ কনস্ট্রাকশনের একটি বহুতল ভবনের কাজ চলাকালীন সময়ে নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধ্বসে পরে পাশের বাড়ীর টিনের চালা ভেদ করে ঐ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ১১ মাস বয়সি শিশু রাইসার করুন মৃত্যু হয় এবং তার পাশে ঘুমিয়ে থাকা রাইসার নানা গুরুতর আহত হয়ে সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। মামলার বাদী, রিয়াজ খলিফা জানান যে এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানায়, হেরিটেজ কন্সট্রাকশনের মালিক, জি এম ও অন্যান্য কর্মকর্তা সহ ৬ জন এর নাম উল্লেখ সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৮/ ১০ জনকে বাদী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় ১ নম্বর আসামি হলেন, হেরিটেজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর পরিচালক মিরাজ মুক্তাদির, ২ নং জয়নাল আবেদীন (প্লট মালিক), ৩নং আসামি হেরিটেজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের জিএম জনাব সাদিক, ৪ নং মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, হেরিটেজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর প্রধান প্রকৌশলী ও ৫ নং আসামি সাইট ইঞ্জিনিয়ার রিফাত ও গ্রেপ্তারকৃত ৬ নং আসামি সাইট ইঞ্জিনিয়ার ফয়সাল ইবনে কালাম সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন।
মামলার বাদি মিরাজ খলিফা এজাহারে উল্লেখ করেন যে আমার ভাড়া বাসার পাশে হেরিটেজ কন্সট্রাকশনের ৭ তলা একটা ভবনের কাজ চলমান রয়েছে অথচ সেখানে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই বল্লেই চলে তিনি নিরাপত্তা বেষ্টনীহীনতার জন্য রাজউক কতৃপক্ষকে দায়ী করেন । এই নির্মম মৃত্যুর জন্য তিনি হেরিটেজ কন্সট্রাকশন কোম্পানি ও রাজউকের দায়ীত্বশীল কর্মকর্তাদেরকে দায়ী করেন।
স্থানীয় একাধীক সাধারণ জনগণের দাবী, রাজউক এর ভবন নির্মান বিধিমালা অমান্য করে এমন দুর্বল নিরাপত্তা বেষ্টিনি দিয়ে এ ধরনের ভবন নির্মান কাজ কখনো হতে পারে না। তারা আরো বলেন এ ক্ষেত্রে রাজউকের বিধি-বিধান মেনে সমস্ত কাজ করার কথা ছিল কিন্তু তারা তা করেনি । সাধারণ জনগণের অভিযোগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের গাফিলতি ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এ ভাবে বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধ্বসে বা নির্মান সামগ্রী পরে গিয়ে, ঝরে যাচ্ছে অগনিত তর তাঁজা প্রাণ।
এ বিষয়ে রাজউক এর মহাখালী জোন ৩ এর পরিচালক, সালেহ আহম্মেদ জাকারিয়াকে ফোন করলে তিনি বলেন ইতি মধ্যে আমাদের কর্তব্যরত কর্মকর্তারা ওখানে তদন্তে গিয়েছে কিন্তু সরজমিন তদন্তে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট জোনের অথোরাইজ অফিসার শেগুপ্তা শারমিন আশরাফকে একাধিকার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
তদন্তে আরো জানা যায় যে উক্ত এলাকায় বর্তমানে রাজউকের কোনো পরিদর্শক কর্তব্যরত নেই। এই এলাকাটি এখন রাজউক পরিদর্শক শুন্য অবস্থায় আছে।