নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৯ মে ২০২৫
রাজধানীর তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা পত্রিকা বিক্রির সময় হকার সুজন নামের এক সংবাদপত্র বিক্রেতাকে বেধড়ক মারধর করেছে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আলোচিত কর্মচারী উমেদার বাবু হাওলাদার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এ সময় ছিনিয়ে নেওয়া হয় তার সঙ্গে থাকা পত্রিকার বান্ডিলও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে সুজন তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে বার্তা বিচিত্রাসহ অন্যান্য পত্রিকা নিয়ে পৌঁছান। উমেদার বাবু হাওলাদার নিজে এসে পত্রিকাটি হাতে নিয়ে পড়তে থাকেন। কিছুক্ষণ পর তিনি পত্রিকায় নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং আশপাশ থেকে ৮–১০ জন সঙ্গীয় সন্ত্রাসী ডেকে এনে সুজনকে মারধর করেন। হামলার একপর্যায়ে তারা সুজনের পত্রিকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে এলাকা ছেড়ে দিতে হুমকি দেন।
এই বর্বর ঘটনায় হকার সুজন মারাত্মক আহত হন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংবাদপত্র বিক্রির মতো একটি পেশায় নিয়োজিত একজন নিরীহ মানুষকে পত্রিকার একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে যেভাবে হামলার শিকার হতে হয়েছে, তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরাসরি হুমকি বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিকরা।
ঢাকার এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, “এটি শুধু হকারের ওপর হামলা নয়—এটি সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সশস্ত্র আঘাত।”
হামলার কয়েক ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, উমেদার বাবুর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা-তে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—
“বাদাম বিক্রেতা থেকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সম্রাট: উমেদার বাবুর অঘোষিত সাম্রাজ্যের ভিতরকার ভয়াবহতা” (পর্ব-০১)।
প্রতিবেদনটিতে উঠে আসে—কিভাবে একজন অস্থায়ী হাজিরাভিত্তিক কর্মচারী বাদাম বিক্রেতা থেকে রেজিস্ট্রি অফিসের নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিতে পরিণত হন। ঘুষ, ভয়ভীতি, সম্পত্তি বাণিজ্য, এমনকি একটি আলোচিত হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি থাকার পরও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা—সবই উঠে আসে বিশদভাবে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই উমেদার বাবু সাংবাদিক ও সংবাদপত্র বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সেই প্রতিশোধের প্রথম শিকার হলেন হকার সুজন।