শাহ্ আলমঃ
রাজশাহী মহানগরে ৯০,র গণঅভ্যুত্থান ও সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জাতীয়তাবাদি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্যাগী নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া এসব নেতাকর্মীর স্মৃতিচারণ ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনার বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়।
গত শুক্রবার (১৬ মে) নগরীর শিরোইল কলোনির ১৯নং ওয়ার্ডে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিলনমেলার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ রানা খন্দকার ও সঞ্চালনায় ছিলেন শাহ্মখদুম থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আনসার আলী টুটুলে।
সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী মহানগর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক মাসুদ রানা বলেন, “৪৭ না হলে ৭১ হতো না, ৭১ না হলে ৯০ হতো না, আর ৯০ না হলে ২৪-এর অভ্যুত্থান হতো না। প্রতিটি ঘটনা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় গভীরভাবে সংযুক্ত। ৯০-এর ৬ ডিসেম্বর আমরা স্বৈরাচার এরশাদকে বিদায় দিয়েছি। এরপর জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে এবং দীর্ঘ ১৫ বছর আমরা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা আন্দোলনে সর্বস্ব হারিয়েছি, তাঁদের মূল্যায়নের দাবি আজও উপেক্ষিত। বর্তমান সময়ের আন্দোলনের অনেক নেতৃত্ব উঠে এসেছে হঠাৎ করেই, অথচ আগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা প্রান্তিক পর্যায়ে পড়ে আছেন। আমাদের ইতিহাস, ত্যাগ এবং সাহসিকতার ভিত্তিতেই নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে।”
বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন যে, “মহানগর বিএনপির বিভাজনের কারণে দীর্ঘদিন দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করা নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। অথচ আমরা আন্দোলনের মাটিতেই জন্মেছি, সেখানেই থেকেছি। অসুস্থ হলেও একে অন্যের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, কেউ কেউ আবার আর্থিক বা সাংগঠনিক সহায়তা ও করেছেন। আমাদের এ ত্যাগ ও নিষ্ঠাকে মূল্যায়ন করা জরুরি।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯ নং ওয়ার্ডের প্রয়াত সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান টিটু সহ গোলাম আলী খোকন, নওশাদ, মোজাম ও বিশিষ্ট সমাজসেবক নুর মোহাম্মদসহ অন্যান্য প্রয়াত নেতাদের স্মরণ করা হয়।
মিলনমেলার আয়োজন ও তত্তাবধানে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা, সুমন, রাসেল, তাহসেন, পিটার ও সজিব।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা ও রাজশাহীর জেলা কমান্ডার নজরুল ইসলাম খোকা, রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন রিমন, হুমায়ন কবির পরাগ সহ মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা।
৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: ইউসুফ হোসেন, শাহাবাজ উদ্দিন বাদশা, আব্বাস আলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র দলের নেতা সাইফুল ইসলাম কালু, বিপুল, মিজানুর রহমান খোকন, কাওসার, ভিপি আজাদ, সাবেক বিএনপি নেতা সাকলাইন ইকো, ১৯নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাইনেসুর রহমান তোতা, যুবদল নেতা ফয়সাল শেখ, সুইট, সিরাজ, ভুটান, রজব আলী বাবু, মুস্তাক আহম্মেদ, হান্নান, হাবিব প্রমুখ