রাজধানীর মুগদা সড়কে ফিটনেসবিহীন সিএনজির দাপট: প্রশাসনের নীরবতায় জননিরাপত্তা হুমকির মুখে

Date: 2025-05-17
news-banner


নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, বাসাবো, গোড়ান ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন শতশত ফিটনেসবিহীন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন সিএনজি অটোরিকশা বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। এই অবস্থাকে জননিরাপত্তা ও সড়ক শৃঙ্খলার জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ প্রশাসনের ভূমিকা প্রায় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়।

মানিকনগর মডেল স্কুল থেকে ইত্তেফাক মোড়, মুগদা বিশ্বরোড থেকে মান্ডা শেষ মাথা ,বৌদ্ধ থেকে কালীবাড়ি মাদারটেক, খিলগাঁও থেকে গোরান বনশ্রী  পর্যন্ত সড়কগুলোতে দিনরাত চলছে এইসব অবৈধ সিএনজির দৌরাত্ম্য। চালকদের অধিকাংশের নেই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়িগুলোর নেই বৈধ রেজিস্ট্রেশন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ।

সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে চলাচলে বাধ্য হচ্ছে। দুর্ঘটনা, যানজট ও যাত্রী হয়রানি এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এসব ঘটছে প্রশাসনের চোখের সামনেই, যেন কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান,
“প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে, কিন্তু এসব ফিটনেসবিহীন সিএনজির কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রবল। একদিন বড় কোনো দূর্ঘটনা ঘটবে বলে আমরা ভয় পাচ্ছি,” বললেন বাসাবোর একজন ব্যবসায়ী মোঃ রফিক।

অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা সালমা খাতুন বলেন, “আমার দুই সন্তান স্কুলে যায়, আমি প্রতিনিয়ত চিন্তিত থাকি তারা যেন কোনো দুর্ঘটনার শিকার না হয়। অথচ প্রশাসন যেন এসব নিয়ে তেমন কিছু করছে না।”

 মান্ডা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত একজন  শিক্ষক আলী হোসেন বলেন, “ফিটনেসবিহীন গাড়ি চললে তা সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া।”

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা সিএনজি সিন্ডিকেটের অস্তিত্বকেই ইঙ্গিত করে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জননিরাপত্তা, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং নগর শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটবে।

অবিলম্বে নগরবাসীর জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় ফিটনেসবিহীন সিএনজি এবং অবৈধ চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।

এই অপ্রতিরোধ্য ‘সিএনজি সিন্ডিকেট’ এখন রাজধানীর নীরব দুর্বৃত্তশক্তি—যা ভাঙা না গেলে সুশাসনের বালাই থাকবে না। বিস্তারিত পরবর্তী  সংখ্যায়।

Leave Your Comments