ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন গাজার লাখো বাসিন্দা। দখলদার ইসরাইল ১০ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গাজায় কোনো ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। খাবার ও ওষুধের পাশাপাশি সেখানকার বাসিন্দারা খাবার না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
শুক্রবার (১৬ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে গাজাবাসীর করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।
ছয় বছর বয়সি গাজার শিশু ইসমাইল আবু ওদেহ উত্তর গাজার একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে ভিড়ের মধ্যে বাটি হাতে চিৎকার করে বলছিল, ‘আমাকে কিছু দাও।’ তার বাটিতে কিছু ডাল দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে যখন ফিরছিল, ভিড়ের মধ্যে খাবারগুলো তার হাত থেকে ছিটকে পড়ে যায়। সে কাঁদতে কাঁদতে তার পরিবারের তাঁবুতে ফিরে যায়।
পরে কিছু খাবার আনতে সক্ষম এক মুরব্বি ইসমাইলের সঙ্গে কিছু খাবার ভাগ করে নিলেন। বিবিসি বলছে, পরদিন আর কোনো খাবার বা পানি পৌঁছায়নি ইসমাইলের থাকা ক্যাম্পে। একটি স্কুল ভবনে গড়া শরণার্থী শিবিরে থাকে সে। সেখানে জড়ো হওয়া লোকদের কাছে খালি বোতল এবং বাটি ছিল। ইসমাইল সেদিনও আবার কাঁদল।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইল সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। খাদ্য, চিকিৎসা সরবরাহ এবং অন্যান্য সাহায্যের ওপর ১০ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অবরোধ অব্যাহত রাখার মধ্যে গত দুই দিন ধরে গাজার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে বিবিসি কথা বলেছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, গাজার বাসিন্দারা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। যদিও ইসরাইলি সরকার জোর দিয়ে বলছে যে, গাজায় খাদ্যের ‘কোনো অভাব নেই’ বরং ‘আসল সংকট হলো হামাস ত্রাণ লুট করছে এবং বিক্রি করছে। তবে গাজার বাসিন্দারা বলছে ভিন্ন কথা।
বিবিসির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনে তারা জানান, দিনে একটি খাবার জোটানোও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বহু রান্নাঘর বন্ধ হয়ে গেছে। বাজারে যা আছে, তার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
গাজার এক স্বেচ্ছাসেবী বলেন, আমার রান্নাঘর ১০ দিন আগে বন্ধ হয়ে গেছে। এই অসহায়ত্বকে ভাষায় প্রকাশ করার মত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। উত্তর গাজার বসবাসকারী ২৩ বছর বয়সি এক নারী বলেন, ‘খাবার ও ওষুধের অভাবে দুর্বলতা এবং ক্লান্তি বাড়ছে’।