চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদের অবৈধ সম্পদের পাহাড় |

Date: 2025-05-12
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদন :-পর্ব-০২

দুর্নীতি দমন কমিশন যখন একের পর এক অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ সম্পদের তদন্তে নিয়োজিত, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রাম কাস্টমস,


 এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে উদ্ঘাটিত তথ্যসমূহ কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে অভ্যন্তরীণ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। একটি নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানী উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, সামাদ কেবল বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের অধিকারীই নন, বরং রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে বিপথগামী করার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যবহার করেছেন আর্থিক প্রলোভন, কৌশলগত মিডিয়া লিয়াজো এবং তথাকথিত সিন্ডিকেট কাঠামো।

রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন এলাকায় চার কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বহুতল ভবনে চারটি ফ্ল্যাট তার মালিকানাধীন। উপর্যুক্ত স্থাপনার মালিকানা যদিও কাগজে-কলমে যৌথ হিসেবে বিবৃত, বাস্তবে তার পূর্ণ ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণভাগ সামাদের পরিবারের অনুকূলে বলবৎ রয়েছে। একই এলাকায় অবস্থিত আরও একটি টিনশেড গৃহ, যার বাজারমূল্য ইতোমধ্যেই এক কোটি টাকা অতিক্রম করেছে, তাও তার নামে অন্তর্ভুক্ত।

রাজধানীর বাইরেও গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন ভূখণ্ডে ছড়িয়ে আছে একাধিক ভূসম্পত্তি, যেগুলোর সরকারি মূল্যমান দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি হলেও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক অনুমান অনুযায়ী সেগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য তার দ্বিগুণ বা তদূর্ধ্ব হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য হলো, তার পত্নী মালেকা পারভীনের নামেও বাড্ডা, দক্ষিণখান, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল এলাকায় বিস্তীর্ণ ভূসম্পত্তি, ফ্ল্যাট এবং বাণিজ্যিক স্পেসের স্বত্বাবলম্বন বিদ্যমান রয়েছে, যার সরকারনির্ধারিত মূল্যমান প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি হলেও প্রকৃত বাজারমূল্য বহুগুণে অধিকতর।

সকল সম্পদের উত্স অনুসন্ধানে দেখা যায়, সামাদের বর্ণিত ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে একদিকে রয়েছে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্তি, অন্যদিকে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের গল্প; কিন্তু দলিলাদির সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণে তার বক্তব্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর প্রতিভাত হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি হলো, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি 'ম্যানেজমেন্ট অপারেশন' নামক গোপন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। অনুসন্ধান সূত্র জানায়, সামাদ ও তার নিকটজনেরা কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম ও চ্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টায় লিপ্ত হন, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে।

দুদক সূত্রের অভ্যন্তরীণ নথিপত্রে লিপিবদ্ধ রয়েছে সামাদ কর্তৃক পরিচালিত প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা এবং তিনি যে প্রভাবশালী যোগাযোগ ও আর্থিক উৎস ব্যবহার করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে বিকৃত করার অপচেষ্টা করেছেন, তা ইতোমধ্যেই নজরে এসেছে। উপরন্তু, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে জাতিগতভাবে একটি প্রশ্ন গভীরভাবে আলোড়িত হয়ে উঠেছে—একজন রাজস্ব কর্মকর্তার নির্ধারিত সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় থেকে এই ধরনের বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব? যদি তা সম্ভব না হয়, তবে প্রকৃত সম্পদের উত্স কোন অনৈতিক বা অবৈধ কার্যক্রমের ফসল?

এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহের ওপর গুরুতর দায়িত্ব বর্তায়—শুধু দলিল বিশ্লেষণ নয়, বরং মাঠপর্যায়ে নেমে বাস্তব অনুসন্ধানের মাধ্যমে দুর্নীতির মূল উৎসকে চিহ্নিত করে তা নির্মূল করা।

অন্তত তিনবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও আব্দুস সামাদ কোনো সাড়া দেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে প্রেরিত বার্তারও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, যা নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।


চলবে....

Leave Your Comments