বিশেষ প্রতিনিধি:
গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারসহ অন্যান্যদের।
সূত্র মতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আতিকুল ইসলাম বিভিন্ন ঠিকাদারের নিকট হতে অধিক পরিমাণ উৎকোচ গ্রহণ করে অনুমোদিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা হতে ৩ বছরে প্রায় ৬০ কোটি টাকার অতিরিক্ত দরপত্র আহবান করে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ বদলী হয়ে চলে যান। এই অতিরিক্ত ৬০ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করে তিনি সুকৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। একই সময় রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়ি ও ৩ টি ভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ) আতিকুল ইসলাম। খরচ করার জায়গা না থাকলেও অর্থবছরে ১২০ টি কাজের বিপরীতে রহস্যজনকভাবে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন এই প্রকৌশলী। যা ঐ সময় বিস্তর সমালোচনার জন্ম দেয়। জানা যায়, সেসময় নিন্মমানের কাজ করা ও কাজ থেকে অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ জমা হয় তখনকার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর কাছে। এছাড়াও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এমন নজির আগে খুব একটা দেখা যায়নি। শুধুমাত্র কমিশন বাণিজ্যই ছিল সেই কমিটির মূল কাজ। কমিটির অনুমোদন নেওয়ার নামে মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগ থেকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ হস্তান্তরে দুই বিভাগের মধ্যে ৫ কোটি টাকার অনুমোদন ফি নেওয়া হয়।
সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ২০০৫ সালে বিএসসি সিভিল শেষ করেন আতিকুল ইসলাম। বিসিএস পাবলিক সার্ভিস ক্যাডার ২৭ ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে চাকুরীতে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে সহকারী প্রকৌশলী এবং ২০১০ সাল থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষানবিশকালের ঐ সময়টুকু তিনি ঢাকার বাইরে চাকরি করেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পদোন্নতি পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা -১ এ যোগদানের পর ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত একই পদে ছিলেন। তারও আগে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে দুই দফায় দুই উপ-বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। মাঝে ঢাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের রক্ষনাবেক্ষন বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
প্রভাবশালী ও আস্থাভাজন নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামকে টেন্ডার সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে দাবি করেন ঠিকাদাররা। আতিকুল ইসলামের শত কোটি টাকা দুর্নীতির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখুন বার্তা বিচিত্রার আগামী সংখ্যায়।