বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উদযাপন

Date: 2025-05-04
news-banner


 
আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
 
গতকাল শনিবার বিশ্বব্যাপী উদযাপন করা হয় “বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস।” প্রতি বছর এই দিনে (৩ মে) সারা বিশ্বে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়। এবারের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের স্লোগান, “সাহসী নতুন বিশ্বে রিপোর্টিং-স্বাধীন গণমাধ্যমে এআই এর প্রভাব।”
 
১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬ তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ মোতাবেক ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ৩ মে খ্রি. তারিখকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম কর্মীরা এ দিবসটি পালন করে আসছে। এই দিবসটিতে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার শপথ নেওয়ার পাশাপাশি ত্যাগী সাংবাদিকদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হয়।
 
শুক্রবার (২ মে) 'রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স' এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, গণমাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে এক বছরে ১৬ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের সকল গণমাধ্যম এখন সরকারের প্রভাবমুক্ত। কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে টেলিফোন করে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। দেশের গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের ১৬ ধাপ উন্নতিই প্রমাণ করে। সরকার দেশের গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে কাজ করছে। উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছরে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশ আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। উল্লেখ্য, ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষ্যে প্যারিস ভিত্তিক সংগঠন ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স, ২০২৫ এ ১৮০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯ তম। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রকাশিত সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৫ তম। ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এ বছর মুক্ত সংবাদমাধ্যমের বিবেচনায় ১০০ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৩ দশমিক ৭১ নম্বর। যা গত বছর ছিল ২৭ দশমিক ৬৪।
 
আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২১ তম। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৫ বছরে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ৪৪ ধাপ পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। প্রসঙ্গত, এ বছর মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান রয়েছে বাংলাদেশ থেকে দুই ধাপ নিচে (১৫১ তম)।
 
‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে আজ রবিবার (৪ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে (মেঘমালা, মাইডাস সেন্টার) ইউনেস্কো ঢাকা অফিস, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং সুইডেন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। ‘ব্রেফ নিউ বাংলাদেশ-রিফর্ম রোডম্যাপ ফর প্রেস’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও অংশগ্রহণ করবেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সেলেন্সি নিকোলাস উইকস, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান সুজান ভাইজ এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ সাংবাদিকেরা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ।
 
‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ এলেই দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হয়। দাবি ওঠে স্বাধীন গণমাধ্যম ও কর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে। বাংলাদেশে এ বছর দিবসটি পালিত হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। বর্তমান সরকারের দাবি, গণমাধ্যম যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। আর সংস্কার কমিশন বলছে, স্বাধীনতা ও আর্থিক নিরাপত্তা নির্ভর করবে অংশীজনের ওপর। টেকসই আর্থিক মডেল ছাড়া গণমাধ্যম স্বাধীন হবে না।
 
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের মুক্তভাবে লিখতে পারা ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন গত ২২ মার্চ সরকারের কাছে গণমাধ্যম সংস্কারের নাতিদীর্ঘ প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনের মূল সুপারিশ নিয়ে গণমাধ্যমে আগেই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জানিয়ে দেওয়া হয়, এই প্রথম বাংলাদেশে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। যদিও বর্তমান সরকারের এই বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দেশে প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের অনেক সিনিয়র সাংবাদিক। 

Leave Your Comments