মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সমাজে একটি প্রচলিত প্রবাদ বাক্য আছে, কলা গাছ কাটতে কাটতে নাকি মানুষ ডাকাত হয়। বাস্তবে ঠিক ঘটেছেও তাই। সাংবাদিকদের হকের হাজার টাকা একাধিকবার হজম করে হাজার পেরিয়ে তাদের নজর এখন কোটি টাকার সম্পদ দিকে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান রিপোর্টার ইউনিটির ব্যনারে আইনজীবির সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে। গত রবিবার বিকালে সংগঠনটির ব্যনার সাটিয়ে অপু নামে স্থানীয় এক আইনজীবির পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা চালায় সংগঠনটির সভাপতি মোঃ নাছির উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম লিংকন। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে সিরাজদিখান উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্য মিশ্র প্রতিক্রীয়া লক্ষ করা গেছে। যেখানে একজন সাংবাদিক অন্যের সম্পদ দখলকারী ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদী যোদ্ধার ভুমিকায় থাকার কথা সেখানে খোদ সেই সাংবাদিকরাই অবৈধ দখলদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এছাড়া লিজের কথা বলে সংগঠনের ব্যনারে অন্যের সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে দখলের অপরাধের দায় এড়াতে উল্টো সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানার ওসি বরাবর মৌখিক অভিযোগ করে হয়রানীর চেষ্টাসহ দলীয় নেতাকর্মী সিএনজি স্ট্যান্ডে দলীয় নেতাকর্মী পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে মর্মে অভিযোগ সিএনজি চালকদের।
সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, লিকন কয়েক বছর আগেও এলাকায় মাসিক বেতনে কোচিং করাতো। আর আজ নাছিরকে নিয়ে সে সিরাজদিখানে নানা অন্যায় অপকর্মের রাজত্ব গড়ে তুলেছে। তারা গত ৫ আগষ্টের আগে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপির আস্থাভাজন সাংবাদিক হিসেবে এমপির প্রিয় পাত্র ছিলেন। সে সুবাদে নাছির ও লিংকন এমপির প্রভাব খাঁটিয়ে একাধিক অপরাধ করেও বারংবার পার পেয়ে যায়। ৫ আগষ্টের পর এখন তারা ঘোল পাল্টে বিএনপি একাধিক সিনিয়র নেতার আনুগত্য হয়ে তাদের সাথে তোলা ছবি পোস্ট করে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর নাছির ও লিংকন বেশ বেপোরোয়া হয়ে উঠে। সাবেক এমপির ছত্রছায়ায় সিরাজদিখান উপজেলায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্য বিস্তারে সিরাজদিখান রিপোর্টার ইউনিটি নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে করে। নাম মাত্র সাংবাদিকদের সংগঠন হলেও তাদের সংগঠনে গুটি কয়েকজন ছাড়া সিংহভাগ অপেশাদারে ব্যক্তিকে সদস্য করে তাদের মাথার উপর কাঠাল ভেঙে খাওয়ার অভিনব কৌশলে পকেট ভারি করতে থাকে।
সংগঠনের সদস্যদের মাথা বিক্রিসহ নানা সেচ্ছাচারিতা ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকান্ডে বিরুদ্ধে কয়েক মাস আগে সংগঠনের শিংহভাগ সদস্য সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পদত্যাগ করে। কিছুদিন তাদের আধিপত্যে ঠান্ডা হাওয়া বইলেও বর্তমানে তাদের গরমে অনেকই তাদের কাঠে যেতে পারেন না। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে দপ্তরে দপ্তরে তাদেরই গুনগান গাইতে শোনা যায়। আর একারণেই তাদের দুইজনকে দালাল সাংবাদিক হিসেবে চেনেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।সাংবাদিকতাকে রাজনৈতিক দলের নেতাদের আনুগত্যের পর্যায়ের নিয়ে যাওয়া লিংকনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সিনিয়র দুই সাংবাদিকের সাথে অসাসাচরণ এমনকি তাদের গায়ে হাত তোলে৷ এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে। প্রায় বছর দেড় পুর্বে বিএনপি একটি সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ প্রকাশের জন্য ১৫ হাজার ও প্রায় এক মাস পূর্বে সিরাজদিখান বাজার ইজারার সংবাদ প্রকাশের জন্য সিরাজদিখান উপজেলার সাংবাদিকদের জন্য দেওয়া সম্মানির ১০ হাজার টাকা আত্নসাৎ করে।
কয়েক বছর পূর্বে রাজাকারের নাতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে সাবেক এমপির ছেলে কেন্দ্রী যুবলীগের সদস্য রিয়াদ তার লোকজনের মাধ্যমে সাংবাদিক রোমান হাওলাদারের পকেটে গাজার পোটলা ঢুকিয়ে দিয়ে পুলিশে দেওয়ার পৈশাচিক নাটক পরিচালনায় গোপনে হিটলারের প্রধান ভূমিকায় লিংকন ও নাছির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে কথা কজনি বা জানে। এছাড়া তাদের দুই জনের বিরুদ্ধে নানা অন্যায় অপকর্মের অভিযোগ থাকলেও পেশাগত প্রভাবের ভয়ে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে নারাজ। রাজনৈতিক একাধিক নেতাকে আনুগত্য ও বিশ্বাসের বড়ি খাইয়ে নাছির ও লিংকনের অন্যায় অপকর্মের কালো ঘোড়ার লাগাম এখনি টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে স্বচ্ছ সাংবাদিকতার পরিবেশ হারানোর পাশাপাশি সিরাজদিখান উপজেলা অপসাংবাদিকতার আতুরঘরে পরিনত হবে। সাংবাদিকতার ব্যনারে দলীয় নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় বেপোরোয়া হয়ে উঠা নাছির উদ্দীন ও লিংকন সাংবাদিকতার পেশাদারিত্বের মর্জাদাকে কলঙ্কিত করেছে। যা একজন পেশাদার সাংবাদিকের জন্য লজ্জার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দখলদার নাছির উদ্দীন বলেন, আমরা ওই জায়গা লিজ এনেছি। আমরা কারো জায়গা দখল করি নাই। আমরা আমাদের জায়গা তাদের হাত থেকে উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছি। মামলা চলমান এমন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি লিজ হয় কিনা, যদি কেউ এমন সম্পত্তির লিজ কোন ভাবে আনেন তাহলে সেটির বৈধতা কতটুকু? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।
পৈত্রিক সূত্রে সম্পত্তির মালিক এডভোকেট অপু বলেন, আমরা পৈত্রিক সূত্রে এ সম্পত্তির মালিক এবং সম্পত্তি নিয়ে বর্তমানে তিনটি মামলা চলমান। এ জায়গা অনেকে লিজ আনার চেষ্টা করেছে পারে নাই। আর সাবেক ডিসি মহোদয় এসিল্যান্ড স্যারকে এ জায়গা লিজ না দেওয়া হয় বলে গেছেন। তারা আমার সাথে জায়গার ব্যপারে কোন কথাও বলে নাই এবং আমার কাছ থেকে ভাড়া বা অনুমতিও নেয় নাই। তাদের এতো বড় সাহস হয় কি করে। আমি এ বিষয় খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিবো।
সিরাজদিখান থানার ওসি শাহেদ আল মামুন জানান, আইনজীবী এ জায়গার মালিক হয়নি। মামলা চলছে। নাসির আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। আমি ব্যবস্থা নিয়েছি যাতে সমস্যা না হয়।