আমি চুনোপুঁটি মমতাজের অনেক শিক্ষক জড়িত সার্টিফিকেট বাণিজ্য করা হাসান আলী।

Date: 2025-04-26
news-banner

স্টাফ রিপোর্টারঃ  শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়ার গল্প নতুন নয়। যুগে যুগে বহু ব্যবসায়ী চাকুরিজীবী ও উদ্যোক্তা শূন্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। বৈধ উপায়ে যারাই বনে গেছেন কোটি প্রতি তাদের নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই।  কিন্তু বিপত্তি বাধে দুর্নীতি বা অবৈধ বাণিজ্যে ভর করে কোটিপতি হওয়া নিয়ে। সেই অবৈধ উপায়টিই যদি হয় শিক্ষা খাতকে ব্যবহার করে তবে এনিয়ে বিপত্তি বাধবে সর্ব মহলে।


কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে দেশব্যাপী সার্টিফিকেট বাণিজ্য করে কোটিপতি বনে গেছেন এসকল চক্রের অনেক সদস্য।  ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাঁচ হাজারের বেশি সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বাণিজ্যের অভিযোগে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট এ টি এম শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এচক্রের আরও কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়।  আটককৃতদের কাছ থেকে জব্দকৃত মুঠোফোন থেকে এচক্রের সাথে জড়িত এমন কয়েকজন সদস্যের নাম ও এলাকা পাওয়া যায়। যা রিমান্ড শেষে আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন গোয়েন্দা (লালবাগ) বিভাগের ইন্সপেক্টর আমিরুল ইসলাম।  

প্রতিবেদনে দেওয়া নামগুলোর মাঝে রয়েছে বিল্লাল নামটি। ঠিকানায় দেওয়া আছে 'ঢাকা, উত্তরা'। এই নামটি নিয়েই দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এই বিল্লালের নাম মূলত বেলাল হোসেন। তিনি কর্মরত আছেন মমতাজ উদ্দীন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে। সেখান থেকেই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রয়োজনে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে যাতায়াত শুরু হয় বেলালের।  সেখানেই পরিচয় হয় আশরাফুল নামক আরেক ব্যক্তির সাথে। ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন সার্টিফিকেট বাণিজ্য চক্রের সাথে। এরপর পার্যায়ক্রমে তার হাত ধরে এচক্রের সাথে সম্পৃক্ত হন  মোহাম্মদ হাসান আলী, 
বেলাল হোসেন বিল্লাল ও হাসান আলী একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রত্যেকেরই রয়েছে ঢাকায় বিলাসবহুল কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট।  আবার কারও কারও নামে  রয়েছে বসুন্ধরায় প্লট মালিকানা। একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সুবাদে মোহাম্মদ হাসান আলী ও বেলাল হোসেনের। দুইজনই জড়িয়ে পড়েন সার্টিফিকেট বাণিজ্য চক্রের সাথে তবে এই চক্রের প্রধান ছিলেন মোরশেদ। এরপর থেকেই তাদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তারা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি -কোটি টাকা। আজকের এই পর্বে আমরা জানবো এই চক্রের সদস্যদের সম্পর্কে।  




মোহাম্মদ বেলাল হোসেন
কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর  থানাধীন ধনকুড়া গ্রামের কৃষক হাসান আলীর সন্তান বেলাল হোসেন। তিনি ২০০২ সালে এইচএসসি পাশের শর্তসাপেক্ষে চাকরি পান রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাধীন আব্দুল্লাহপুর মমতাজ উদ্দীন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে। এরপর ২০০৫ সালে এমপিওভুক্ত হন কম্পিউটার ডেমোনেস্টেটর - কাম - মেকানিক হিসেবে। ২০০৫ সালে তার বেতন ছিলো ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ২০০৯ সালে বেতন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪ শত টাকায়। ২০১২ সালে আমেনা খাতুন কারিগরি  স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করে অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব নেন। তিনি মমতাজ উদ্দীন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে কর্মরত শিক্ষক হিসেবে এখনও রয়েছেন। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম বহির্ভূত।  ২০১৫ তার বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ হাজার টাকা হয়, 
যা এখনও চলমান।  তিনি যে বেতনে চাকরী করেন, সে বেতনে অনেকেরই পরিবারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। অথচ বেলাল হোসেনের রয়েছে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একাধিক ফ্ল্যাট, হোসেনপুর নিজ এলাকায় নামে-বেনামে জমি, ঢাকা উত্তরার উত্তরখান থানাধীন আলফা টাওয়ারে একটি ফ্লাট ও পাসের শাহীন বিল্ডিংয়ে রয়েছে তার আরও একটি ফ্ল্যাট। উত্তরার দেওয়ান সিটিসহ ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে দৌড় ঝাঁপ করেছে আরেকটি ফ্লাট কিনার জন্য। এছাড়াও হোসেনপুর আড়াইবাড়ীতে বেলাল হোসেন করেছেন আওয়ামী ব্যানানে চেয়ারম্যান নির্বাচানও। যেখানে প্রায় কোটি টাকা খরচ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



এছাড়াও গত ৫ই আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর উত্তরা পূর্ব থানায় ফরিদা ইয়াছমিন নামক এক নারীর করা শহীদ রিজভী হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। 
গ্রেফতারের আগে এসকল বিষয়ে বেলালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অভিযুক্ত বিল্লাল নয় আমার নাম বেলাল হোসেন। একই সাথে দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার বিষয়ে বলেন আমি আমেনা খাতুন কারিগরি  স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করে অধ্যক্ষের দ্বায়িত্বে কিছু দিন থাকি, তবে এখন নেই। ১৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে এতো সম্পদের মালিক কিভাবে হয়েছেন এই প্রশ্নে তিনি উগ্র আচরণের সাথে বলেন আমার হোসেনপুরে একটা ১০ লক্ষ্য টাকায় জমি কেনা ছিলো ২০০৫ সালের পরে। সেটি বিক্রি করে আলফা টাওয়ারে এই ফ্ল্যাট কিনেছি। শাহিনের বিল্ডিংয়ের ফ্ল্যাটের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে বলেন হোসেনপুরের অন্য আরেকটি জমি বিক্রি করি ২৭ লক্ষ্য টাকা। ওই টাকা দিয়েই ফ্ল্যাট কিনেছি'। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ফ্ল্যাট কেনার পর বেশ কয়েক মাস আগে হোসেনপুরের জমি ৫০ লক্ষ টাকা বিক্রি করে উত্তরার উত্তরা আজমপুর একটা  ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক শিক্ষক। এছাড়াও তিনি জানান ২০১৯ সালের পর আমি আর বোর্ডে যাইনি। বিল্লাল ওরফে আশরাফুলের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন আশরাফুলের সাথে পরিচয় হওয়ার পর আমাকে খুব রিকোয়েস্ট করে একটা সত্যায়িত করে দেয়ার জন্য। আমি সেটা করে দেই আপনি বিল্লাল নয় তাহলে আশরাফুলকে কিভাবে চিনেন এমন প্রশ্ন উত্তর না দিয়েই ফোন কেটে দেন। নান প্রকাশে অনিচ্ছুক কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের  এক কর্মকর্তা জানান বেলাল এর চাচা শশুর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাবেক উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ভোক শাখার জনাব নূরে এলাহির ছোট ভাইয়ের মেয়ের জামাই বলেই এসকল অনিয়ম করে এসেছে। তবে এসকল অভিযোগের বিষয়ে বেলালের চাচা শশুর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাবেক উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ভোক শাখার জনাব নূরে এলাহির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আসপাশের লোকজন বা বিভিন্ন মাধ্যমে বেলালের এসকল অপকর্মের বিষয় জানতে পেরেছিলাম।  তবে আমরা পারিবারিক ভাবে এবিষয় গুলো নিয়ে একাধিকবার বসেছি। এমনকি সে(বেলাল) বলেছে এধরণের কাজ পরবর্তীতে আর করবে না। আমি ২০২১ সালে অবসরে আসছি। কর্মরত থাকাকালীন সময়ে আমার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি কোন প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি করে সেটার দায়িত্ব  আমি নেব না, সে যেই হোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মমতাজ উদ্দিন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের একজন ছাত্রী জানান প্রতিষ্ঠানটিতে বেলাল হোসেন স্যারের যেমন চরিত্রগত সমস্যা। ঠিক তেমনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক অনিয়মের দুর্নীতির সাথে জড়িত। 




মোহাম্মদ হাসান আলী 
টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানাধীন বাঘিল গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলীর সন্তান মোহাম্মহ হাসান আলী। তিনি ২০০২ সালে কম্পিউটার সাইন্সে মাস্টার্স পাসে চাকরি পান রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাধীন মমতাজ উদ্দীন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে। এরপর ২০০৫ সালে এমপিওভুক্ত হন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর কম্পিউটার হিসেবে। ২০০৫ সালে তার বেতন ছিলো ৩ হাজার ৪শ টাকা। ২০০৯ সালে বেতন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার। পরবর্তী ২০১৪ সালে টাইম স্কেলে ১১হাজার যা ২০১৫ সালে পে-স্কেলে ২২ হাজার টাকা হয়। পরে প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট এর ৫% যোগ করে বর্তমানে তার বেতন ৩০ হাজার ৯শত টাকায় দাড়িয়েছে। হাসান আলী ২০০৬ সালে নর্দান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করে অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব নেন। এরপর পুরোদমে শুরু করেন সার্টিফিকেট বাণিজ্য। এই বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি করতে প্রতিষ্ঠা করেন মধুপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামক আরও একটি প্রতিষ্ঠান। এখানেই থেমে থাকেননি, সরিষাবাড়ী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানেরও  শেয়ার নেন তিনি। এছাড়াও  ধনবাড়ী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটিরও মালিকানা মোহাম্মদ হাসান আলীর। তিনি মমতাজ উদ্দীন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে কর্মরত শিক্ষক হিসেবে এখনও রয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও তিনি নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। তবে এ বিষয়ে একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলার পর,বা নিউজের অনুসন্ধান চলাকালীন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিক্রিও করে দিয়েন হাসান আলী ও বেলাল হোসেন। 
 


শিক্ষকতা জীবনে পদার্পনের পর থেকে তিনি যে বেতন পেয়েছেন, তা দিয়ে মুদ্রাস্ফীতির এই দিনে একটি পরিবার পরিচালনা করাই কষ্টসাধ্য। অথচ হাসান আলীর ঢাকা-গাজিপুরে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। এছাড়াও  টাঙ্গাইলে নিজ এলাকায় নিজ নাম ব্যতীত নামে-বেনামে জমি কিনেছেন তিনি। স্ত্রী ও নিজ নামে রয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যাংক ডিপোজিট।  
ঢাকা বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট নেওয়াটা স্বপ্ন দেখেন অনেক উচ্চবিত্ত, সেখানে শিক্ষক হাসান আলীর রয়েছে প্লট। নিজ মালিকানাসহ ছোট ভাই আব্দুর রশিদ এর নামেও কিনেছেন বসুন্ধরায় আরেকটি প্লট। গাজীপুর কলেজ গেট এলাকায় ব্লু স্কাই নামক একটি নির্মানাধীন ভবনে কিনেছেন ফ্ল্যাট।  টাঙ্গাইলে করেছেন থ্রিপ্লেক্স বাংলো বাড়ী। এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, ছোট ভাই মোহাম্মদ মামুনের নামে তিনি কিনেছেন কয়েকটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো চ ১২–০৬২৬, ঢাকা মেট্রো ঘ ২৭–৮৪৪২ ও ঢাকা মেট্রো ন ১৭–০২০৭) এবং একটি দোতলা মার্কেট করেন । মার্কেটটির দ্বিতীয় তলায় ৫০ থেকে এককোটি টাকা মূলধন নিয়ে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেছেন মামুনের নামেই। তবে এসকল বিষয়ে হাসান আলীর নিজ এলাকার একাধিক ব্যক্তির প্রশ্ন, একজন কৃষকের ছেলে যে অন্যের বাড়িতে লজিং মাস্টার থেকে পড়া শুনা করেছে তিনি দুই-দশক শিক্ষকতা করে কত বেতন পেল যে তার ছোট ভাই মামুনকে দিয়ে গ্রামে সুদের ব্যবসার মতো এনজিও চালাচ্ছেন। ঢাকা গাজিপুরে ফ্ল্যাট -প্লট ও গাড়ি কিনে ব্যবসা করাচ্ছেন হাসান আলী আবার শুনিছি আওয়ামী লীগের ব্যানারে করবেন এমপি নির্বাচন" তবে এখনতো আর ফ্যাসিস্টরা নেই। 



এসকল বিষয়ে হাসান আলী জানান আমি একসময় মাস্টার ছিলাম এখন আমি মাস্টারি করিনা বলে অনুসন্ধান চলাকালীন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়েছেন তিনি। সম্পদের বিষয়ে হাসান আলী আরও বলেন, গ্রামে যা আছে এগুলো আমার না ছোট ভাই মামুনের। এছাড়াও গাজীপুর কলেজগেটে ফ্ল্যাটের বিষয়ে প্রাথমিক অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে জানান এটি আমার স্ত্রীর বড় ভাই আমার স্ত্রীকে কিনে দিয়েছেন। বসুন্ধরার প্লটের বিষয়টি প্রাথমিক স্বীকার করলেও একপর্যায়ে বলেন এটা আমি কিস্তিতে কিনেছি। গ্রামের বাড়ি রেন্ট এ কারে চলা ৬ থেকে ১০টি গাড়ির বিষয় তিনি অস্বীকার করে একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে বলে উঠেন আমরা চুনোপুঁটি ধরে লাভ কী? দেশে অনেক বড় বড় দূর্নীতিবাজ আছে"আমি নয়তো দুই-চারটা সার্টিফিকেট বানিজ্য করেছি তাতেকি  মমতাজউদ্দিন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধিকাংশ শিক্ষকরা  ও বাংলাদেশের সকল প্রিন্সিপাল এই বাণিজ্যের সাথে জড়িত। আমি একজন মাস্টার মানুষ আমার ক্ষতি করে আপনার লাভ কি❞ আমরা বিষয়টি মীমাংসা করে নেই বলে অনুসন্ধানকারী কে জোর পূর্বক এক লক্ষ্য টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। 
টাকা নিতে অস্বীকার করলে মামলার হুমকিসহ কয়েকজন ছাত্রদল নেতা ও 
সাবেগ সেনা সদস্য হাসান আলীর বন্ধু ব্যবসায়িক পার্টনার পরিচয় দিয়ে নিউজ না করার হুশিয়ারি দেন। 
অনিয়মের বিষয়ে মমতাজউদ্দিন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রিন্সিপাল নাসির উদ্দিনের কাছে হাসান আলী আপনার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে ? এমন প্রশ্নে বলেন আমার প্রতিষ্ঠানেই চাকরি করেন।
শিক্ষকদের অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার প্রতিষ্ঠানের  শিক্ষক এধরণের কোন অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



তবে আমি কিছু শুনেছি হাসান আলীর বিষয়ে তিনি এই ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত তবে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাইনি  
আপনি নিউজ করেন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 
এসকল বিষয়ে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা  গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের ইন্সপেক্টর আলমগীর পাটোয়ারী জানান  
মামলাটির তদন্ত আমি করছি মামলার সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে তদন্ত সাপেক্ষে  আইনের আওতায় আনা হবে, আপনার কাছে যা যা তথ্য আছে আমাদেরকে দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
এবিষয়ে জানতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ জয়নাল আবেদীনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ রকিব উল্যাহ  জানান মামলাটি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালক প্রশাসন দেখেন। অনিয়ম দুর্নীতির সাথে কোন শিক্ষক বা কোন কোন প্রতিষ্ঠান জড়িত আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।

Leave Your Comments