ইমরান খাঁন :
আশুলিয়ার নরসিংহপুরে ইয়াকুবের লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসীতে অপচিকিৎসা - মেয়াদ উত্তীর্ণ ও অবৈধ ঔষধ বিক্রি এবং অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ - বিক্রির অভিযোগ।
ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে শতশত লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসী। প্রশাসনের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে আশুলিয়া থানার সকল ইউনিয়নের অলিতে গলিতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফার্মেসি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন ওষুধের ব্যবসা। অনেকে আবার চায়ের দোকান মুদির দোকানেও ঔষধ বিক্রি করে আসছে।এমনকি আশুলিয়ার জামগড়া ছয়তলা ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধির ভেজাল ঔষধ।বিশেষজ্ঞ'দের মতে এই সমস্ত ঔষধ সেবন করে অতি অল্প দিনেই হারিয়ে ফেলছে পুরুষের পুরুষত্ব,উত্তেজনা মুলক ভেজাল ঔষধ সেবন করে চারিপাশে ধর্ষনের মতো অপকর্ম গুলোও বৃদ্ধি পাচ্ছে । এমন পরিস্থিতিতে সাভার আশুলিয়ায় কয়েক লাখ মানুষ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভুক্তভোগী এরশাদ গণমাধ্যম কর্মীদের জানায় যৌন দুর্বলতার চিকিৎসার জন্যে ভাই ভাই ফার্মেসীতে যায়' নিজেকে ডাক্তার দাবী করা ইয়াকুব সাহেবের কাছে। তাহার কাছে গেলে উক্ত বিবাদী এরশাদ'কে চিকিৎসা করার কথা বলে এবং তার নির্ধারন করা ঔষধ খেলে নাকি এরশাদের দাম্পত্য জীবনের যৌন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। চিকিৎসার জন্যে কিছু ট্যাবলেট সহ জিনসিং সিরাপ জাতীয় ঔষধ দেয়। তাহার ঔষধ সেবন করার পর এরশাদের শারীরিক ও মানুষিক অবস্থা আরও অবনতি হয়।এরশাদ আলী গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এই কথাও বলেন এই ভাই ভাই ফার্মেসির পরিচালক ইয়াকুবের ঔষধ খাওয়ার পর তাহার স্ত্রীর সাথে শারিরীক সম্পর্কে সে অক্ষম।প্রতিনিয়ত বাগবিতণ্ডা লেগেই আছে এরশাদের দাম্পত্য জীবনে। ইয়াকুবের ভুল চিকিৎসার কারনে আমার পুর্বের চেয়ে শারিরীক যৌন দুর্বলতার অবস্থা আরও অবনতি হয়। আমি ভাই ভাই ফার্মেসির ইয়াকুব সাহেবকে 'বিষয়টি জানাইলে তিনি উল্টো আমার সাথে খারাপ আচরণ করে।
সাধারণ জনগণের অভিযোগ, অলিতে গলিতে লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসীগুলোতে জনগণের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে চলছে ছিনিমিনি খেলা। অনেকেই জানেন না ওষুধের দাম ও মেয়াদ সম্পর্কে। এতে গলাকাটা বাণিজ্য ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে রোগীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি ফার্মেসি গুলোতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
আইন অনুযায়ী বলা হয়েছে, দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ কোনও ওষুধ বিক্রি বা মজুদ রাখা যাবে না। ড্রাগ সার্টিফিকেট টানানো থাকতে হবে। ওষুধ বিক্রয়ের সময়ে ক্রেতাদের প্রতিটি ওষুধের নাম মূল্যসহ ক্যাশ মেমো প্রদান করতে হবে। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনও ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। দেশীয় ওষুধ ব্যতীত বিদেশি ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। এসব নিয়ম থাকলেও মানছেন না বেশির ভাগ ফার্মেসী।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়নের লাল পাহাড় এলাকার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে, ভাই ভাই ফার্মেসী নামে ঔষধের দোকান চালিয়ে আসছে ইয়াকুব আলী নামের এক যুবক। কোন প্রকার লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের মন মতো ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ঔষুধ বিক্রি করে আসছে এই ভাই ভাই নামের ফার্মেসীতে। কোন প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স ছাড়াই ওই ফার্মেসীতে বসেই শিশু, বৃদ্ধ, গাইনি রোগিসহ নানা জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছে এই যুবক । আর গ্রামের সাধারণ জনগণ এই ফার্মেসীর মালিক'কেই ডাক্তার মনে করে নিচ্ছেন বিভিন্ন রোগের ঔষধ ও চিকিৎসা। এই এলাকার সাধারণ মানুষ কোন ঔষধ'টি আসল কোনটি ভেজাল তা চিহ্নিত করতে পারে না। এর ফলে ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধের বাণিজ্যও ইয়াকুবের ফার্মেসীতে জম'জমাট হচ্ছে। আর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে ইয়ারপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট সমিতির আশুলিয়া থানা উপ সাখার সভাপতি জহুরুল ইসলাম খান লিটন বলেন, আগে আমাদের অনেক সদস্যের ফার্মেসীর ড্রাগ লাইসেন্স ছিল না। আমাদের সমিতির আওতায় আসার পর অনেকগুলোই ড্রাগ লাইসেন্স করেছে। সবাই তো আমাদের সমিতির না। এখন মুদির দোকানেও ওষুধ বিক্রি করছে ইউনিয়নের অনেক ফার্মেসিগুলো আমাদের সমিতিতে নেই। অবৈধ ভাই ভাই ফার্মেসির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে ইয়াকুব আলী বলেন, আমি আশুলিয়া ফার্মেসী ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সদস্য। ওই সংগঠন এর সদস্য হলেই লাইসেন্স ছাড়া এভাবে ফার্মেসী চালানো যায় কিনা এবং ফার্মেসীতে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও বিক্রি করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আপনাদের কৈই'ফিয়ত দিতে পারবো না, এগুলো দেখার জন্য সিভিল সার্জন আছে, বিস্ফোরক অধিদপ্তর আছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আছে, ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া যদি ফার্মেসি চালানো না যায়,তাহলে আমি কিভাবে চালাচ্ছি ? ফায়ারের কাগজ ছাড়া যদি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ আর বিক্রি না করা যেত তাহলে আমি কিভাবে বিক্রি করতেছি ? এটা যদি অবৈধ হইত তাহলে অবশ্যই তারা ব্যবস্থা নিতো। কই এরকম কেউ তো আমাকে কিছু বলেনি, আপনারা আপনাদের কাজ করেন। আমার ফার্মেসি নিয়ে আপনাদের মাথা ঘামাইতে হবে না।
আপনিতো গার্মেন্টসে চাকরি করতেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে আপনি নিজেই চিকিৎসা প্রদান করেন এটা কি আপনি করতে পারেন, আপনি কি কোন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন ? আর আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু ? ফার্মেসি চালানো এবং চিকিৎসা প্রদান করতে যতটুকু যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন সেটি আছে কিনা ? এই প্রশ্নের জবাবে ইয়াকুব আলী বলেন - আমি চিকিৎসা করতে পারি বলেই করি, এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয় এই বিষয়ে আমি আপনাদের সাথে কথা বলতে রাজি না, আপনাদের কিছু করার থাকলে করেন, ভোক্তা অধিকার, সিভিল সার্জন, ফায়ার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, এগুলো সব আমি দেখে নিবো।
এ বিষয়ে সাভার সিভিল সার্জন বলেন, যে ফার্মেসী দোকানগুলোতে ড্রাগ লাইসেন্স নেই তারা ফার্মেসী দোকান চালু রাখতে পারবে না। আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ ফার্মেসী বন্ধ সহ শাস্তির ব্যবস্থা করবো। অবৈধ ফার্মেসীর বিরুদ্ধে আমাদের মোবাইল কোর্ট অভিযান শীঘ্রই পরিচালনা করা হবে।