নিজস্ব প্রতিবেদক।।
মৎস্য অধিদপ্তরের 'সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট (১ম সংশোধিত)'-এ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ম জিয়া হায়দার চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, টেন্ডারে অনিয়ম এবং কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পিডি জিয়া হায়দার পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাদের সঙ্গে চুক্তি করেন। প্রতিটি টেন্ডার পাস করতে তিনি সময়ক্ষেপণ করেন, যা প্রক্রিয়াটিকে জটিল করে তোলে। কক্সবাজারের এমকেএ হ্যাচারির সঙ্গে ভুয়া চুক্তি করে তিনি এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিল্লুর রহমান মিলে সরকারি কোষাগার থেকে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার চেক ছাড় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সময় কোনো আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সামুদ্রিক চিংড়ির রেনু পোনা আমদানির কথা থাকলেও তা না করে কক্সবাজার উপকূল থেকে অবৈধভাবে চিংড়ি সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে মজুদ করা হয়। আমদানির প্রমাণস্বরূপ তৈরি করা হয় জাল ডকুমেন্ট, যাতে ছিল ভুয়া পোর্ট ক্লিয়ারেন্স, কাস্টমস ছাড়পত্র এবং ব্যাংক পেমেন্ট স্টেটমেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোনা মেরিন বায়োটেক’-এর নামে ৫টি ভুয়া ভাউচার তৈরি করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, এই ভাউচারগুলো তাদের নয় এবং তাদের ওয়েবসাইটে যাচাই করেও তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কক্সবাজারের সোনারাড়ার হ্যাচারির মালিক ছানাউল্লাহ আবু গত বছরের ৩ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, সচিব এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তবুও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজার, খুলনা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের হ্যাচারি এবং মাছের খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আতাত করে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন মহাপরিচালক ও তার নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট।
অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাইয়ুম ও যুগ্মসচিব হেমায়েত হোসেন এই দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রকল্প পর্যবেক্ষণ না করে ঘুষের বিনিময়ে দুর্নীতির বৈধতা দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোনালিসা’ ও ‘হাওলাদার’ নিয়মিত ঘুষ দিয়ে কোটি টাকার কাজ পেয়ে আসছে। এমনকি ইলিশ প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজই শহীদ ঠিকাদার নামক এক ঠিকাদার পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি মৎস্য খাতের স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মৎস্য খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এসব কর্মকর্তাকে অপসারণ ও শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পিডি জিয়া হায়দার এবং বর্তমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দেননি।