আজাদ সিনেমা হলের মালিকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):

 

এবার আজাদ সিনেমা হলের মালিক মৃত: খলিল উল্লাহর ছেলে মো. ইমরান হোসেন (৫০), ইয়াসিন মালের ছেলে হল ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন মাল (৪৫) ও মৃত: মতিন খানের ছেলে মো. ওয়াসিম (৩৪) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে সূত্রাপুর থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিম শিউলি আক্তার নদি (২৫)। যার মামলা নং- ১২, তারিখ- ২৮/০১/২০২৫ খ্রি. ধারা- ১৪৩/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৪২৭/ ৩৫৪/ ৩৭৯/ ৩৮০/ ৪৬১/ ৫০৬ দন্ডবিধি।

 

এর আগে আজাদ সিনেমা হলের মালিক মো. ইমরান হোসেন, মো. ইকবাল হোসেন ও এরশাদ এবং হল ম্যানেজার আলাউদ্দিন মাল সোহেলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানী ও মারধরের অভিযোগ এনে ভিকটিম শিউলী আক্তার গত ১৯ নভেম্বর (বুধবার) আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। দন্ডবিধির ১৪৩/ ৩২৬/ ৩২৩/ ৩০৭/ ৪৪৭/ ৫০৬/ ৩৪ নং ধারায় যার সি.আর মামলা নম্বর- ২৫৬/২০২৪। মামলাটি চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গত ২৫/১১/২০২৪ খ্রি. তারিখ “আজাদ সিনেমা হলের মালিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ” শিরোনামে বার্তা বিচিত্রা পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই মামলাটি বর্তমানে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) এর তদন্তাধীন রয়েছে।

 

এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ভিকটিম শিউলি আক্তার আদালতে আইনজীবীর চেম্বার হয়ে ফিরে যাওয়ার পথে বেলা আনুমানিক ১১ টার দিকে সূত্রাপুর থানাধীন ন্যাশনাল হাসপাতাল সংলগ্ন পুতুল বিরানী হাউজের সামনে পাকা সড়কের উপর বিবাদীগণ কর্তৃক আক্রমনের শিকার হয়েছেন বলে মামলাসূত্রে জানা যায়। ১ নং বিবাদী ইমরানের নির্দেশে ২ নং বিবাদী আলাউদ্দিনের সহযোগীতায় ৩ নং বিবাদী ওয়াসিম অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন দুর্বৃত্তকে সাথে নিয়ে ভিকটিমের উপর হামলা চালায়। হামলার পূর্বে দুর্বৃত্তরা শিউলিকে জোরপূর্বক আজাদ সিনেমা হলের ভিতরে নিয়ে যেতে চায়। শিউলি রাজি না হলে তাকে ভয়-ভীতি ও মেরে ফেলবার হুমকি প্রদান করা হয়। এতেও শিউলি রাজি না হলে ওয়াসিমের হাতে থাকা ধারালো ছুরিসহ দুর্বৃত্তরা তার উপর হামলে পড়ে। এ সময় ভিকটিমের ডান হাতের কব্জির উপর, বাম হাতের বাহুতে ও বুকের উপর এলোপাতারি কোপাইয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতারি কিল-ঘুষি মেরে নীলাফুলা জখম করে তারা। পরে ভিকটিমের স্বামী খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

 

অদ্য (৩১ জানুয়ারি) শুক্রবার বিকাল পাঁচটার দিকে এই মামালার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই. মনসুর হেলালের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। তিনি আরো জানান যে, বর্তমানে তিনি টঙ্গীতে ইসতেমার মাঠে ডিউটিরত আছেন, আগামী সাত দিনের জন্য।