প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২২
সময়: ০৬:৩৭ পিএম
ভুমিদস্যু ও জাল দলিল চক্রের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
- মোঃ সুজন ইসলাম (নীলফামারী) প্রতিনিধি।।
- নীলফামারীর ডিমলায় জাল দলিল চক্র ও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার বাবুরহাট বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
- মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ,মহুবার হোসেন, মশিয়ার রহমান, ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানসহ ক্ষতিগ্রস্ত ও সচেতন নাগরিক।
- বক্তারা বলেন, জাল দলিল চক্রের মূলহোতা মাজেদুল-রনজিৎ- হাফিজুল- ময়েন গং।তারা জাল কাগজ তৈরি করে এলাকার নিরীহ মানুষের জমি দখলে নিয়ে ভোগদখল ও বিক্রি করছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো মারধর করে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে নানা প্রকার হয়রানি করে। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সহায়তা চান এলাকাবাসী।
- ক্ষতিগ্রস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ বলেন, ভূমিদস্যুরা জাল দলিল,রেকর্ড জালিয়াতি ও পর্চা তৈরি করে নিরীহ মানুষের শতশত বিঘা জমি অবৈধভাবে দখল করে চলেছে। টাকার বিনিময়ে জাল দলিল বানিয়ে অন্যকেও জমি দখল করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।মোটা অংকের টাকা দাবী করে এ প্রতারক চক্রটি প্রকৃত ভূমি মালিকদের একের পর এক মিথ্যা মামমলাসহ প্রাননাশের হুমকি দিয়ে আসছে।প্রভাবশালী হওয়ায় এই চক্রের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মামলা করেও লাভ হচ্ছে না।
- ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, আমার ক্রয়কৃত ৭একর সম্পতি জাল দলিল করে জোরপূর্বক ৫ বছর ধরে দখল করে খাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। আমার মতো অনেকের জমি-জমা এভাবে জোর করে খাচ্ছে তারা।
- মহুবার হোসেন বলেন,ভূমির সব পর্যায়ের জাল কাগজপত্র, স্ট্যাম্প, সিলমোহর আছে তাদের কাছে। এমনকি জাল স্ট্যাম্প, ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নামে নকল করা সিল ও জাল স্বাক্ষরের ব্যবস্থাও আছে এই চক্রের কাছে। একইসঙ্গে পুরোনো দিনের বিভিন্ন আমলের স্ট্যাম্পও আছে জাল দলিল চক্রের হাতে।
- তাদের এই কাজে রংপুর সাব রেজিস্টার অফিসের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলেন তিনি।
- ভুক্তভোগীরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে জানিয়ে ভুক্তভোগি পরিবার ও এলাকার সচেতন নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
- মানববন্ধন শেষে ভূমিদস্যু ও জালিয়াতি চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বারকলিপি প্রদান করেন।
- তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের একজন হাফিজুল ইসলাম বলেন, এসব মিথ্যা বানোয়াট। আমি রনজিৎ ভুইমালীর কাছে জমি কিনেছি । রনজিৎ ভুইমালীর সাথে অনেকের জমিজমা নিয়ে বিরোধপূর্ন মামলা চলছে ।তারাই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে।
- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, সম্প্রতি ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলের শতাধিক সরকারি স্ট্যাম্প ও দলিল জাল করার উপকরণসহ বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তাদের জাল সই-সংবলিত ১৬৫টি সিলসহ জাল চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- আমরা সবসময়ই এর বিরুদ্ধে কঠোর। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। খুব শীঘ্রই এই পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।