রুয়েট প্রতিনিধি:
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং একপর্যায়ে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের একটি দলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রুয়েটে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। তবে গত দেড় বছরে বেশ কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে রাজনীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ফলে তারা ক্যাম্পাসে গোপন ও প্রকাশ্য উভয় ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
এরই প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুর ২টায় একদল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ক্যাম্পাসে রাজনীতির বিপক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পূর্বের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বলবৎ রাখার দাবি জানান।
আন্দোলন চলাকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনুসারী পরিচয়ে ৩০-৩৫ জনের একটি দল প্রশাসনিক ভবনের দিক থেকে মূল ফটকের দিকে এগিয়ে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও কোনো সংঘর্ষ হয়নি। পরে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা মূল ফটকের পাশে অবস্থান গ্রহণ করেন।
শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
আন্দোলনকারীরা এসময় তিন দফা দাবি পেশ করেন। যার মধ্যে প্রধান হলো—নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে গণভোট আয়োজন করে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ বিন জাহিদ বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। রুয়েটকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।” দাবিগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন তড়িৎ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রিদওয়ান সিদ্দিকী।
অন্যদিকে, মূল ফটকের পাশে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ মাসুদ দীপ্র বলেন, “ক্যাম্পাসে বর্তমানে গোপন রাজনীতির অনেক প্রমাণ রয়েছে। আমরা মূলত উন্মুক্ত ও সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চার অধিকার চাই এবং এই ব্যাপারে প্রশাসনের নিকট দাবি পেশ করব।”
এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবন থেকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দিকে অগ্রসর হন। মিছিলে তারা শিবির, ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ইউনিয়নসহ সব ধরনের ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
প্রসঙ্গত, আগের দিন একই স্থানে থাকা একটি রাজনীতিবিরোধী ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হলে আন্দোলনকারীরা আজ পুনরায় সেখানে নতুন ব্যানার স্থাপন করেন।