পটুয়াখালী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ: আইনী সহায়তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন।

Date: 2026-04-18
news-banner

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পৈত্রিক বসতবাড়ির জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল ও ঘর নির্মাণের প্রতিবাদ করলে খুন জখম নানা রকম ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। পরিবার ও নিজের নিরাপত্তায় আইনী সহায়তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরগুনা জেলার তালতলী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন। 

১৮ এপ্রিল (শনিবার) বেলা ১১ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন বলেন, এস এ ১০০০ নং খতিয়ান ভুক্ত যাহা, বিএস-৪২৪৯ নং খতিয়ানের ৫০৫৯ নং দাগের ০.৭৭ একর বিএস ২০৬২ নং দাগের ১.৫১ একর এবং বিএস ৫০৬৩ নং দাগে ০৩১ একর, মোট ২.২৮ একর ভূমি বন্দোবস্থমূলে সরকারের নিকট হইতে বিগত ৭১৯৭১ ইং তারিখের ১৭৭ নং কবুলিয়ত মূলে প্রাপ্ত জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে ৫০ বছরেরও অধিক সময়ে ভোগদখল করে আসছে।

তাদের বসতবাড়ি কুয়াকাটা তুলাতলী হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় জমির গুরুত্ব বেড়ে যায়।  তাই তাদের ওই জমির উপর স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমি খেকো চক্রের লোলুপ দৃষ্টি পরে। ওই চক্রটি ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে ১৯৭১ সালে বন্দোবস্ত প্রাপ্ত জমি ২০০০ সালে পুনরায় বন্দোবস্ত দেয় ভূমি অফিস। যা সম্পুর্ন বেআইনি ভাবেকরা হয়েছে তথ্য গোপন করে। এ নিয়ে আমি এবং  আমার পরিবার বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী বিজ্ঞ জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। যার দেওয়ানী মোকদ্দমা নং- ৪৫৫/২১। 
গত ১০/০৩/২০২৬ তারিখে ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত বিরোধীয় জমির উপর স্থিতিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও গত ৩১ জুলাই তুলাতলী গ্রামের মজিবর মোল্লা, জয়নাল শেখ, শাহ আলম, মোঃ জলিল, আলাম সহ একদল লোক নিয়ে রাতের আধারে দখল করে বিরোধীয় জমিতে ঘর নির্মাণ করে। 

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আরো বলেন, তিনি চাকুরির কারনে কর্মস্থল তালতলীতে ছিলেন। পরে বাড়িতে এসে গত ১৫ মার্চ ২০২৬ মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 
মহিপুর থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা পেলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল ও ঘর নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ না নিয়ে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনার জন্য আগামী ২২ এপ্রিল সময় নির্ধারণ করে।

জালাল উদ্দীন বলেন, তিনি সরকারি চাকুরির কারনে কর্মস্থলে থাকেন। এই সূযোগে প্রভাবশালী ওই চক্রটি আমার পরিবারকে দেখে নেয়া সহ প্রান নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তারা প্রশাসনের তোয়াক্কা করছেন না। তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা সব সময় আতংকের মধ্যে থাকেন। প্রভাবশালী ওই চক্রটি যে কোন সময় তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের যে কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই তিনি আইনী সহায়তার প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামিম হাওলাদার বলেন, তিনি গতকাল মহিপুর থানায় যোগদান করেছেন। এবিষয়ে তার কিছুই জানা নেই। খোজখবর নিয়ে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তিনি।

Leave Your Comments