মতলব উত্তরে শিক্ষিকা কর্তৃক শাশুড়ীকে নির্যাতনের অভিযোগ ও পারিবারিক বিরোধে গাছ কর্তন

Date: 2026-01-14
news-banner


শামীম আহমেদ জয়,  মতলব চাঁদপুর :
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে একই পরিবারের ভেতরে বিরোধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এর আগে ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন বোন নুরজাহান নয়ন মনি। এবার সেই একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গাছ কেটে ক্ষতি সাধন ও মাকে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় নতুন করে মামলা করলেন তার মা পারভীন বেগম (৬০)।
অভিযুক্তরা হলেন পারভীন বেগমের ছেলে মো. কাইয়ুম (৩২) ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার (২৬)। রুনা আক্তার বর্তমানে লুধুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
এর আগে কাইয়ুমের বোন নুরজাহান নয়ন মনি মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগে উল্লেখ ছিল ভাই কাইয়ুম ও তার স্ত্রী পৈতৃক জমি দখলের উদ্দেশ্যে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গাছ কাটাসহ ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। ওই ঘটনায় আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

এবার সেই একই অভিযোগের ধারাবাহিকতায় কাইয়ুমের মা পারভীন বেগম থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, স্বামী রফিকুল ইসলাম মেম্বারের মৃত্যুর পর ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে ভরণপোষণ না দিয়ে উল্টো তার ও মেয়ের মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।
পারভীন বেগমের অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার ( ১০ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের ভাটি রসুলপুর দেওয়ান বাড়ি এলাকায় তার ও তার মেয়ের মালিকানাধীন জমিতে কাইয়ুম, রুনা আক্তার ও আরও অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জন মিলে ৩৫ বছর বয়সী ৪টি কাঠগাছ জোরপূর্বক কেটে নেয়, যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ৯০ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, বাধা দিতে গেলে তাকে ও তার মেয়েকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, আর বাধা দিলে তোদের মেরে ফেলব, সব সম্পত্তি দখল করে নেব।

ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও অভিযুক্তদের থামানো সম্ভব হয়নি। পরে পারভীন বেগমের মেয়ে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে মতলব উত্তর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আসার খবর পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী পারভীন বেগম বলেন, নিজের ছেলের কাছে আজ আমি নিরাপদ না। আগে আমার মেয়েকে, এবার আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই। আমাকে আমার ছেলের বউ এবং ছেলে বহুদিন যাবত মারধর ও নির্যাতন করে আসছে। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কাইয়ুম বলেন, আপনাদের নিউজে আমার কিছু যায় আসে না। আপনারা নিউজ করেন। তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।
এলাকাবাসী জানান, একই পরিবারের ভেতরে একের পর এক অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আইনি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহফুজুর রহমান বলেন, এর আগে বোনের করা অভিযোগসহ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গাছ কর্তন ও মাকে নির্যাতনের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান বলেন, একই পরিবারের ভেতরে একাধিক অভিযোগ আসা বিষয়টিকে আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এখানে গাছ কেটে আর্থিক ক্ষতি, নারী নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave Your Comments