“বাসাবাড়িতে অবৈধ হাসপাতাল: মা-মেয়ের ‘ডাক্তারি’ ও গর্ভপাতের রমরমা বাণিজ্য ধরা পড়ল”

Date: 2025-11-29
news-banner

স্টাফ রিপোর্টার:

চলছে অবৈধ গর্ভপাতের রমরমা বাণিজ্য সিভিল সার্জনের অনুমোদন নেই, নেই ক্লিনিক পরিচালনার কোনো বৈধ কাগজপত্র। আইনের তোয়াক্কা না করেই আবাসিক বাসাবাড়ির অন্দরমহলে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্র। বাইরে ঝুলছে মেয়ে ডাক্তার নুসরাহা বিনতে নদীয়ার চটকদার সাইনবোর্ড, আর ভেতরে দিব্যি ডাক্তারি করছেন তার নার্স মা।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কারবার নিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, মেয়ের ডাক্তারি সনদকে পুঁজি করে নার্স মা নিজেই ডাক্তার সেজে রোগী দেখছেন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অবিবাহিত নারীদের অবৈধ গর্ভপাত ঘটাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডা. নুসরাহা বিনতে নদীয়ার (গাইনি ও প্রসূতি, মা ও শিশু) নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রোগী আকর্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডা. নদীয়া মাঝেমধ্যে চেম্বারে বসলেও, নিয়মিত রোগী দেখেন তার মা মাকসুদা বেগম। নার্স হওয়ার সুবাদে তিনি চিকিৎসা বিদ্যার আংশিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেকে ‘বড় ডাক্তার’ হিসেবে জাহির করেন। লিফলেট বিতরণ এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রোগী ভাগিয়ে এনে এই বাসাতেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে ডা. নুসরাহা বিনতে নদীয়ার সাথে কথা বললে তিনি দাবি করেন, 


তবে তার এই দাবির সাথে বাস্তব চিত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে সাংবাদিকরা সেই বাসাবাড়ির ভেতরে অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং রোগীকে অজ্ঞান করার (অ্যানেস্থেসিয়া) উচ্চমাত্রার ঔষধ শনাক্ত করেন। একটি আবাসিক বাসায় সাধারণ চেম্বারের নামে কীভাবে এতসব সার্জিক্যাল সরঞ্জাম থাকে, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি অভিযুক্তরা।



মহল্লাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায় ভয়াবহ সব তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, মাকসুদা বেগম তার সরকারি চাকরির প্রভাব খাটিয়ে এবং নিজ বাসায় বেড বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গর্ভপাতের ব্যবসা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে অবিবাহিত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের গর্ভপাত ঘটানোর জন্য এই স্থানটি নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এর আগে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রভাবশালী মহলকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ঘটনা ধামাচাপা দেন মাকসুদা বেগম। কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও দের বছর আগে মেয়ের এমবিবিএস কমপ্লিট হলে পুনরায় জাঁকজমকভাবে এই অবৈধ বাণিজ্য শুরু করেছেন তিনি।

বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছাড়া এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সার্বক্ষণিক ডাক্তার, নার্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো বাসাবাড়িতে অস্ত্রোপচার বা ইনডোর সেবা প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি। অথচ প্রশাসনের নাকের ডগায় মাকসুদা বেগম ও তার মেয়ে এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসছেন।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্রটি সিলগালা করা হোক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, নতুবা যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি।

Leave Your Comments