শান্তিনগরে আমজাদ হিরণ গংয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ১০ তলা ভবন: আতঙ্কে এলাকাবাসী, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি রাজউকের

Date: 2025-11-28
news-banner

সবুর খান:

রাজধানীর অভিজাত এলাকা শান্তিনগরে ইমারত নির্মাণ বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে ১০ তলাবিশিষ্ট একটি বহুতল ভবন। অভিযোগ উঠেছে, রাজউকের কঠোর নির্দেশনা অমান্য করে স্থানীয় আমজাদ হিরণ ও তার সহযোগীরা (গং) অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই ভবনটি নির্মাণ করছেন। রাজউকের চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে তোলা এই ভবনটি যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূমিকম্পে ধসে পড়ার (নিঃসরণ) শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন মহল্লার সচেতন সমাজ।

শান্তিনগরের ওই এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনটিতে মানা হচ্ছে না ন্যূনতম ‘বিল্ডিং সেফটি’ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে চারপাশে যে পরিমাণ জায়গা (সেটব্যাক) ছাড়ার কথা, তা ছাড়া হয়নি। এমনকি রাজউকের অনুমোদিত নকশার সাথে বর্তমান কাঠামোর কোনো মিল নেই। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় শ্রমিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। শত ফুট ওপরে কাজ করা শ্রমিকদের পরনে নেই কোনো হেলমেট, শরীরে নেই সেফটি বেল্ট। নেই কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী। ফলে পথচারী ও শ্রমিকদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "আমজাদ হিরণ গংরা রাজউকের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে ভবন তুলছেন। যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে এটি তোলা হচ্ছে, তাতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেই এটি পাশের ভবনের ওপর আছড়ে পড়তে পারে। আমরা আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং রাজউকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"

বিষয়টি নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সংশ্লিষ্ট জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, অবৈধ স্থাপনা ও নকশা বহির্ভূত কাজের বিরুদ্ধে রাজউক বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
রাজউকের ওই কর্মকর্তা বলেন, "শান্তিনগরের মতো এলাকায় কেউ চাইলেই নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করতে পারে না। আমাদের নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি বর্তমানে রাজউকের বিশেষ মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমজাদ হিরণ বা যেই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।" 

তিনি আরও বলেন, "ইতোমধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। খুব শীঘ্রই আমাদের মোবাইল কোর্ট সেখানে অভিযান পরিচালনা করবে। যদি লেবার সেফটি না থাকে এবং নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হবে এবং অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হবে। রাজউক কোনো অনিয়মকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে না।"

রাজউকের চলমান মোবাইল কোর্ট অভিযানের মাধ্যমে শান্তিনগরের এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

Leave Your Comments