ইসলামের নামে ভয়ঙ্কর প্রতারণা: রাঙ্গামাটিতে 'ফুঁ' করার নামে সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ, কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি!

Date: 2025-11-24
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদন:

‎​চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল রাঙ্গামাটিতে ইসলামের নাম ও আধ্যাত্মিকতার আড়ালে এক ভয়ঙ্কর প্রতারণা চক্রের খবর সামনে এসেছে। কামরুজ্জামান নামের এক তথাকথিত 'ধর্মীয় ব্যক্তি'-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি 'ফুঁ করা', 'খুনকারি' এবং মানসিক সমস্যা সমাধানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই প্রতারক মানুষের জীবন নষ্ট করার মতো অমানবিক কাজেও লিপ্ত।

‎​অভিযোগের কেন্দ্রে: মানসিক নির্যাতন ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া

‎​গত ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে আমাদের অফিসে এসে এক ভুক্তভোগী নারী যে অভিযোগ করেছেন, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। তিনি জানান, তার প্রবাসী স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার পর স্ত্রীকে মানসিকভাবে ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যে কামরুজ্জামান নামের ওই ব্যক্তির শরণাপন্ন হন।

‎​ভুক্তভোগীর মর্মন্তুদ ভাষ্য:

‎​“আমার স্বামী তাকে (কামরুজ্জামানকে) বলে আমাকে এমনভাবে নষ্ট করতে যেন আমি পাগল হয়ে যাই এবং সারাজীবনের জন্য তাকে ছেড়ে চলে যাই। এরপর বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়।”
‎​ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারণার এই জঘন্য খেলায় ধাপে ধাপে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্রথমে ২,১০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া হয় 'রেজিস্ট্রেশন কনফার্ম' করার নামে। এরপর নানা অজুহাতে দফায় দফায় আরও টাকা দাবি করা হয়, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৬,০০০ টাকা। টাকা আত্মসাতের পর যখন ভুক্তভোগী জানতে চান, তখন বলা হয়— "অফিসে গেলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।" কিন্তু এরপর কামরুজ্জামান ও তার সহকারীরা সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, ফলে ভুক্তভোগী কোনো সাড়া পাননি।

‎​প্রতারণার সাম্রাজ্য: বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন ও ব্যক্তিগত সহকারী

‎​এলাকাবাসীর অভিযোগ, কামরুজ্জামান কেবল একাই নন, তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী নিয়ে এই প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই সহকারী তাকে সব কাজে সহায়তা করেন এবং তাদের সমস্ত খরচ এই প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই নির্বাহ হয়। এভাবে দিনের পর দিন ইসলামের পবিত্র নাম ব্যবহার করে সাধারণ ও সহজ-সরল মানুষদের শোষণ করে একটি ব্যক্তিগত 'প্রতারণার সাম্রাজ্য' গড়ে তোলা হয়েছে।
‎​
অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের দায় অস্বীকার

‎​এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আমরা যখন অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন—
‎​“আমার সব কাগজপত্র এবং লাইসেন্স রয়েছে। আপনারা চাইলে আমাদের অফিসে এসে দেখতে পারেন। আমি ঠিকানা পাঠিয়ে দিব।”
‎​তবে তিনি তার 'লাইসেন্স' বা কার্যক্রমের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি এবং অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। এই ধরনের স্পর্শকাতর ও গুরুতর অভিযোগের পরেও তার নির্লিপ্ততা এবং দায় অস্বীকার করার প্রবণতা জনমনে আরও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
‎​
‎বিচারের পক্ষে অকাট্য প্রমাণাদি: কঠোর শাস্তির দাবি

‎​এই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। তারা জানিয়েছেন, তাদের কাছে এই জঘন্য কাজের অকাট্য প্রমাণাদি সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে রয়েছে:
‎​🔹 অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং: প্রতারণার কৌশল ও অর্থ দাবির কথোপকথনের প্রমাণ।
‎​🔹 বিকাশ লেনদেনের স্ক্রিনশট: টাকা লেনদেনের ডিজিটাল প্রমাণ।
‎​🔹 কথোপকথনের প্রমাণ: টেক্সট মেসেজ ও অন্যান্য যোগাযোগের রেকর্ড।
‎​বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার কাছে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণাদি আমাদের মিডিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছেন। এই প্রমাণগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ধাপে অনুসরণ করা হবে।
‎​
‎​স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে: "লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
‎​ভুক্তভোগী এবং স্থানীয় জনগণ দৃঢ়ভাবে এই ধরনের প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসকে ভেঙে দিচ্ছে এবং তাদের জীবন নষ্ট করার মতো অপরাধ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
‎​এই ঘটনা সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আস্থার ভিত্তিকে আঘাত করেছে। আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত করবে এবং কামরুজ্জামান ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে।

Leave Your Comments