তৌহিদুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সহকারী শিক্ষিকা সুলতানা পারভীনের ওপর বাশার বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলা, শ্লীলতাহানি এবং দাঁত ভাঙার ঘটনায় শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বন্দভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে এই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কালীনগর এলাকার বাশার ও দেলোয়ারের গং পরিকল্পিতভাবে শিক্ষিকার ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলার একপর্যায়ে তাকে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং লোহার রড দিয়ে আঘাত করে নিচের পাটির একটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। এই বর্বরতার ঘটনা পুরো শিক্ষা সম্প্রদায়কে স্তম্ভিত করেছে বলে মন্তব্য করা হয়।
বক্তৃতায় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা সুলতানা পারভীন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা বেগম এবং ভুক্তভোগীর স্বামী মো. মাসুদুর রহমান। শিক্ষক–শিক্ষার্থী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশ নেন। বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টায় পারিবারিক ও জমি–জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবুল বাশার (৫২), দেলোয়ার হোসেন (৩৫), গুলেরা বেগম (৫০) ও আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র ও লাঠি–সোটা নিয়ে ভুক্তভোগী দম্পতির ওপর হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষিকা সুলতানা পারভীনের গলা থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ১২ আনা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে টেনে–হিঁচড়ে শ্লীলতাহানির শিকার করা হয়।
আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।