অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ হঠাৎ করে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভোটার থেকে ঢাকা-১০ আসনের ধানমন্ডি এলাকার ভোটার হয়েছেন। রোববার (১০ নভেম্বর) গণমাধ্যমে এ খবর আসে। এর পেছনে তার উদ্দেশ্য–আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা থেকে অংশগ্রহণ করা।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিজের বাড়ি বা সম্পত্তি থাকতে হয়, অথবা ভাড়াটিয়ার ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়ার রশিদসহ চার ধরনের তথ্য জমা দিতে হয়। কিন্তু আসিফ মাহমুদের ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে, তিনি ভোটার ফরমে উল্লেখ করেছেন, গত ৮ বছর ধরে নিউ মার্কেট এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন, যদিও বাস্তবে তিনি ঢাকার মিন্টো রোডের সরকারি বাসায় থাকছেন।
ধানমন্ডি থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ওয়াজাহাত নূরের নোটিশ বোর্ড অনুযায়ী, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি বিল, হোল্ডিং ট্যাক্সের কপি ও বাড়িভাড়ার রশিদ। তবে আসিফ মাহমুদের আবেদনে হোল্ডিং ট্যাক্স ও বাড়িভাড়ার রশিদ ছিল না।
নথি যাচাই-বাছাই ও আবেদন গ্রহণে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুর রশিদ মিয়া ছিলেন। তিনি জানান, আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত সচিব এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছেন।
রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্রার্থীতা
আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমে বলেছেন, ঢাকা থেকে তিনি নির্বাচন করবেন, তবে কোন আসন থেকে তা চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে, ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি এখনও কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এতে করে সম্ভাবনা রয়েছে, আসিফ মাহমুদ বিএনপির সমর্থন নিয়ে এই আসনে নির্বাচন করতে পারেন।
ঢাকা-১০ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির হয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। দলের অভ্যন্তরেও আলোচনা রয়েছে যে আসিফ মাহমুদ হয়তো বিএনপির গ্রিন সিগন্যাল নিয়ে ধানমন্ডি থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
আসিফ মাহমুদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন কৌশল এবং নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক থাকলেও তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দলীয় সমর্থন নিশ্চিত করেননি। তবে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা যথেষ্ট স্পষ্ট।