প্রধান উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বরিসহ অন্যান্য স্বৈরশাসকের মতো দেশের জনগণের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো অর্থের ক্ষমতা। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শফিকুল আলম লেখেন, হাসিনার হাতে রয়েছে বিপুল অর্থ, যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে পিআর প্রচারণা চালাতে ও ব্যয়বহুল আইনজীবী নিয়োগ দিতে সক্ষম।
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, পশ্চিমা গণমাধ্যম ও ভারতের কিছু চাটুকার মিডিয়াও নিশ্চিত নয়, হাসিনা কি সত্যিই নিজে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, নাকি তার পিআর টিম লিখে দিচ্ছে। এসব সাক্ষাৎকার কৌশলে ‘ইমেইলে নেওয়া’ বলে চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পুরো প্রচারণায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে, যাতে হাসিনার গল্প টিকে থাকে এবং তাকে মানবিক রূপে উপস্থাপন করা যায়।
তিনি ইঙ্গিত দেন, এটি নতুন ঘটনা নয়; স্বৈরশাসক ও দুর্নীতিবাজদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পিআর এজেন্সি ও আইন সংস্থাগুলো ভুয়া ‘নির্দোষতার’ চিত্র তৈরি করে, যেখানে আইনি ভাষা ও বিবৃতির আড়ালে প্রকৃত নৃশংসতা চাপা পড়ে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আইএমএফ-এর সাবেক প্রধান ডমিনিক স্ট্রস-কান এবং চিলির একনায়ক পিনোশের কাহিনী।
শেষে শফিকুল আলম সতর্ক করেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও ভারতীয় অনুচরদের মাধ্যমে হাসিনার আরও ‘ইমেইল সাক্ষাৎকার’ প্রকাশিত হবে, কিন্তু এগুলো কোনও সত্য বা অনুশোচনার প্রকাশ নয়। এগুলো কোটি কোটি টাকার পিআর প্রচারণার ফল, যার উদ্দেশ্য এক গণহত্যাকারীকে মানবিক রূপে উপস্থাপন করা।