ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, ফিলিস্তিন রোডম্যাপ ছাড়া চুক্তিতে রাজি নন সৌদি যুবরাজ এমবিএস

Date: 2025-11-10
news-banner

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) তাঁর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে এমন কোনো ঘোষণা দেবেন না বলেই জানিয়েছে উপসাগরীয় সূত্রগুলো।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ স্পষ্ট করেছে—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না।


ফিলিস্তিন প্রশ্নে অটল রিয়াদ

দুই উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সৌদি আরব মার্কিন প্রশাসনকে কূটনৈতিকভাবে জানিয়েছে যে, তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবসম্মত পথনকশা থাকতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা জোনাথন পানিকফ বলেন,

“ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ ছাড়া এমবিএস কখনোই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন না।”


ওয়াশিংটনে আসছেন এমবিএস, আলোচনায় প্রতিরক্ষা চুক্তি

আগামী ১৮ নভেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও এমবিএস বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
এই সফরে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তবে এটি আগের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ চুক্তির তুলনায় সীমিত পরিসরের হবে।

রিয়াদ চাইছে, এই চুক্তির ধারায় ভবিষ্যতে পূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উন্নীত করার সুযোগ রাখা হোক, যাতে ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্টরা চাইলে এটি বাতিল করতে না পারেন।


ইসরায়েলি হামলা ও আরব জনমতের প্রভাব

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় নির্বিচারে বোমা বর্ষণ শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে আরব জনমনে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব তীব্র। ফলে সৌদি আরবের পক্ষে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মানাল রাদওয়ান বলেন,

“ইসরায়েলি বাহিনীকে গাজা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে গাজায় ফিরিয়ে আনতে হবে।”


প্রতিরক্ষা চুক্তির নতুন বাস্তবতা ও ইরান ফ্যাক্টর

রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের আলোচনার পটভূমিতে পরিবর্তন এসেছে। অতীতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পূর্ণ সামরিক সুরক্ষা চাইত, কিন্তু ইরানের হুমকি কমে যাওয়ায় এখন সেই আগ্রহ হ্রাস পেয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, তারা কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে আছে। এর ফলে রিয়াদ এখন মার্কিন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আরও সতর্ক ও শর্তসাপেক্ষ অবস্থান নিচ্ছে।


বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থান হলো—

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক মজবুত করা,

  • কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো অগ্রগতি না করা।

গাল্ফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান আবদুল আজিজ বলেন,

“গাজায় যুদ্ধের পর আলোচনার পরিবেশ মৌলিকভাবে বদলে গেছে। এখন রিয়াদ নিজের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাস্তবতায় এগোচ্ছে।”

Leave Your Comments