রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি ও মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে আজ সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের ওই শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা ওই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষক নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করে আসছেন। এমনকি অনৈতিক প্রস্তাব, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘উনি নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন—যেমন, “তোমার কোমর তো ভালো দোলে”, “রাতের রানী”, “রাতের গার্ড” ইত্যাদি। আমাদের প্রথম ব্যাচ থেকে সপ্তম ব্যাচ পর্যন্ত অনেকেই তাঁর এমন আচরণের শিকার হয়েছেন।’
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষককে কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নম্বর কমিয়ে দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে যাওয়া নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি অশোভন আচরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মারতে যাওয়া ও মামলার হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।’
তবে অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে শিক্ষক বলেন, ‘এটি আমার বিরুদ্ধে সাজানো নাটক। প্রথম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীর ট্যুরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার পর থেকেই সে আমার নামে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। এখন সিনিয়র কয়েকজন শিক্ষার্থী বাকি শিক্ষার্থীদের উসকে দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু বলেছিলাম, যদি আমার স্ত্রীর কিছু হয়, তাহলে মামলা করব। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’
বর্তমানে বিভাগজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।





