স্টাফ রিপোর্টার
প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় ভোগান্তির যেন কোনো শেষ নেই। মুগদা টিটি পাড়া সড়কে বছরের পর বছর ধরে যে অবৈধ দখলদারিত্ব চলছে—তা এখন আর নিছক অব্যবস্থাপনা নয়, বরং এক সংঘবদ্ধ দুর্নীতির ছক। সরেজমিনে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য—ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দখলদার পরিবহন মালিকদের ছাড়পত্র দিচ্ছেন—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, রিকশাচালক ও সাধারণ পথচারীরা স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন, "টিআই সাহেব টাকা খেয়ে চুপ করে থাকেন। বাসগুলো নির্দ্বিধায় দাঁড়িয়ে থাকে, তিনি এসেও কিছু বলেন না। কেবল মাঝে মাঝে হুইসেল বাজিয়ে ‘ফর্মালিটি’ সারেন, যেন জনগণকে দেখাতে চান কাজ করছেন—আসলে কিছুই করেন না।"
আরও ভয়ংকর অভিযোগ হলো, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবহন মালিকরা সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে ট্রাফিক কর্মকর্তাদের "ম্যানেজ" করে থাকেন। এক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "এখানে সবাই জানে কার কাছে কত দিতে হয়। টিআই সাহেব চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যেই সব বাস উধাও করতে পারেন তা তিনি করবেন না কারন প্রতিমাসে যে টাকা ভর্তি খাম দেয়া হয় সেটি তো পাবেনা এজন্যই সে কিছু বলতে পারছে না।
এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে প্রশ্ন ওঠে—টিটি পাড়া এখন কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, নাকি মাসিক চাঁদা-নির্ভর ‘চুক্তিভিত্তিক’ পরিবহন মালিকদের হাতে পুরো এলাকা বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে?
যে রাষ্ট্রে ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব হয় যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সেখানে তিনি নিজেই যদি অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতায় নেমে পড়েন, তাহলে সেই শৃঙ্খলার আশা করবে কে?
সিটি কর্পোরেশন, রেলওয়ে, বিআরটিএ—সবাই মুখ ফিরিয়ে রাখলেও যে বাহিনী চোখের সামনে নিয়ম ভাঙা দেখেও কিছু করে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি। কারণ প্রশাসনের এই নির্লজ্জ নিষ্ক্রিয়তা এখন জনগণের ক্ষোভকে কেবল বাড়িয়ে তুলছে না, বরং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা বিনষ্ট করছে দ্রুতগতিতে।
একজন ক্ষুব্ধ চাকরিজীবী বলেন, "আমরা যাদের বেতন দিই কর দিয়ে, তারাই যদি ঘুষ খেয়ে অপরাধীদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? রাষ্ট্রের আইন কোথায়?"
অন্যদিকে স্কুলপড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, “আমাদের বাসার সামনের ফুটপাত দিয়ে হাঁটাও যায় না। মা সকাল বেলা নিয়ে বের হন স্কুলে পৌঁছে দিতে, কারণ হেল্পাররা যা খুশি বলে। পুলিশের সামনে বললেও তারা বলে—‘ওদের কথা শুনে লাভ নাই, তাড়াতাড়ি চলে যান।’ মানে পুলিশ নিজেই ওদের নিয়ন্ত্রণে!”
এই চিত্র একটি ব্যর্থ, ভঙ্গুর এবং মূল্যহীন প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতিচ্ছবি। ট্রাফিক পুলিশ যদি ঘুষের বিনিময়ে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার বৈধতা দেয়, তাহলে আর অপরাধ বলে কিছু থাকে কি?
জনগণ এখন একটাই দাবি তুলছে—দ্রুত ওই টিআই-এর ভূমিকা তদন্ত করে তাকে প্রত্যাহার এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে মুগদা টিটি পাড়া থেকে অবৈধভাবে দখল করে রাখা সব বাস উচ্ছেদ করতে হবে শক্ত হাতে।
চলবে...