ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে হামলার জন্য ইসরাইলকে যদি জবাবদিহির আওতায় না আনা হয়, তাহলে ‘পুরো অঞ্চলসহ গোটা বিশ্বকেই এর পরিণাম ভোগ করতে হবে’।
রোববার (৬ জুলাই) ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আমাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তি এনপিটি এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২২৩১-এর চরম লঙ্ঘন। ২০১৫ সালে এই প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে অনুমোদন দিয়েছিল।’
জুন মাসে ইরানের কয়েকটি সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হঠাৎই হামলা চালায় ইসরাইল। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। দুই প্রতিবেশীর সংঘাতের মধ্যে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
আরাঘচি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালায় তাতে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের আগ্রাসী যুদ্ধে আমেরিকান সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ থাকে না।
আরাঘচি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালায় তাতে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের আগ্রাসী যুদ্ধে আমেরিকান সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ থাকে না।
রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ব্রিকস প্লাস জোটের অন্যান্য সদস্যদেশের সমর্থন পেয়েছে ইরান। সম্মেলনে ব্রিকস প্লাস জোট ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ১১টি দেশের এই জোট বলেছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৩ জুন ২০২৫ থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর পরিচালিত সামরিক হামলার আমরা নিন্দা জানাই। তারা ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাসহ সাধারণ নাগরিক অবকাঠামোর ওপর ‘ইচ্ছাকৃত হামলায়’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া ব্রিকস নেতারা গাজায় চলমান সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনি সমস্যার একটি ‘ন্যায্য ও সুষ্ঠু সমাধানের’ মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।