বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার করপাড়া গ্রামের দিনমজুর ফারুক হাওলাদার এখন মৃত্যুর মুখোমুখি। একজন মানুষের উপকার করতে গিয়ে রশির আঘাতে মুখে আঘাত পান তিনি। সেই সামান্য আঘাতই আজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ ক্যান্সার।
চিকিৎসা করাতে করাতে পরিবারটি সর্বস্বান্ত হয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। ঘটনার শুরুটা ছিল ছোট। অন্যের কাজে সহায়তা করতে গিয়ে একটি ছিটকে আসা রশি এসে আঘাত হানে ফারুকের মুখে। সেই আঘাতের স্থানেই ধীরে ধীরে দেখা দেয় অস্বাভাবিক ফোলা। প্রথমে তাকে ভর্তি করা হয় বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
চিকিৎসা চলতে থাকলেও মুখের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে মুখে অপারেশনও করা হয়। কিন্তু সেই অপারেশনের পর বিপত্তি আরও বেড়ে যায়। মুখের ভিতরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে মুখের এমন অবস্থা যে, তাকে ভাতের মার বা সুজি ছাড়া কিছু খাওয়ানোই সম্ভব না। পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে যান ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে ফারুকের পরিবার বিক্রি করে দিয়েছে শেষ সম্বল – ভিটে মাটি। নিয়েছে সুদের ওপর ঋণ। আজ তারা নিঃস্ব। চিকিৎসা থেমে গেছে পুরোপুরি।
ফারুক হাওলাদারের স্ত্রী মুকুল বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী একজন দিনমজুর। আঘাত পাওয়ার পর মুখ ফুলতে শুরু করে। ডাক্তাররা অপারেশন করেন, কিন্তু এরপর মুখের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এখন মুখের ভেতর অনেকটা বড় হয়ে গেছে। খাওয়ানো যাচ্ছে না, শুধু মার আর সুজি খাওয়াই। আমাদের কিছু জায়গা জমি ছিল, তা বিক্রি করে দিয়েছি। ঋণ করেছি, সুদের টাকাও তুলেছি। এখন এক টাকাও হাতে নেই। গ্রামের ছেলে-মেয়েরা কিছু টাকা জোগাড় করে দিলে ওতেই সামান্য চিকিৎসা চলছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা দরকার। এই টাকা আমরা দিতে পারব না। তাই সরকার ও দেশের জনগণের কাছে সাহায্য চাই।’
তার বড় ছেলে মো. আল মামুন বলেন, ‘আমি নিজেও একজন দিনমজুর। বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমাদের যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। বরিশাল, পরে ঢাকায় নিয়েছি। ডাক্তার বলেছেন উন্নত চিকিৎসা দরকার। তার জন্য অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা দরকার। এ টাকা যোগাড় করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। তাই চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে গেছে।’
এলাকার তরুণ সমাজসেবক মো. কাইয়ুম হাওলাদার জানান, ‘ফারুক কাকার মুখে আগে একটি বিচি উঠেছিল, আমরা তখন জানতাম না। তারা নিজেরা চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিল। যখন তাদের কাছে টাকা শেষ হয়ে যায় তখন আমরা জানতে পারি। ক্যানসার ধরা পড়ে মুখে। এরপর আমরা এলাকার যুব সমাজ মিলে কিছু সহযোগিতা করছি। তবে এই সাহায্য যথেষ্ট নয়। দেশবাসী যদি এগিয়ে আসে, তাহলে হয়তো ফারুক কাকার জীবন রক্ষা করা সম্ভব।’
এ ব্যাপারে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। এরপর বানারীপাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তারা আমাদের কাছে আবেদন করলে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে।’
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফারুক হাওলাদারের অবস্থা খুবই খারাপ। তার পরিবার যদি যথাযথভাবে আবেদন করে, তাহলে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেয়া হবে।’