মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনার পারমাণবিক কর্মসূচি ১ থেকে ২ বছর পিছিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। এটা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিরই প্রতিধ্বনি। ট্রাম্প বলে আসছেন, হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে’।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, বুধবার (২ জুলাই) পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া তিন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘আমরা অন্তত এক থেকে দুই বছর তাদের কর্মসূচি পিছিয়ে দিতে পেরেছি- গোয়েন্দা মূল্যায়ন এমনটাই বলছে।’
নতুন করে পরমাণু চুক্তির লক্ষ্যে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংসের লক্ষ্যে গত মাসে (১৩ জুন) ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। এর এক সপ্তাহ পর ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২১ জুন মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাসহ তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে বোমা ফেলে।
ওইদিনই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম ‘শেষ’ করে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য কর্মকর্তারাও একই দাবি করেন। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্ষয়ক্ষতি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। পেন্টাগনের গোয়েন্দা শাখা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা ডিআইএর জানায়, ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়নি।
তবে সিআইএর জানায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে। হামলা ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কয়েক বছর পিছিয়ে দিয়েছে। তেহরান প্রথম দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অস্বীকার করলেও গত কয়েকদিন ধরে বলছে, মার্কিন হামলায় তাদের পরমাণু কেন্দ্রে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র আব্বাস আরাঘচিও স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় পরমাণু স্থাপনায় ‘গুরুতর ক্ষতি’ হয়েছে। তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত সপ্তাহে বলেন, ট্রাম্প হামলার ক্ষয়ক্ষিতিকে ‘অতিরিক্ত’ করেছেন। মার্কিন হামলার পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে আসলেই কি ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।