কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টারসহ একাধিক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। গতকাল কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। জনতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের হস্তক্ষেপে সাংবাদিকরা শেষ পর্যন্ত রক্ষা পান। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. শাহিন চৌধুরী (আমাদের কণ্ঠ) জানান, “ঘটনার সময় আমি ও আমার সহকর্মীরা—মেহেদি হাসান কুদ্দুস (যুগান্তর), জাহিদ হোসেন (সবুজ বাংলাদেশ), নাহিদ হাসান ও আনোয়ার হোসেন (বার্তা বিচিত্রা)—উপজেলা এলাকায় মৎস্য ভবনের সামনে সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে মজিবুর রহমান ও শামিমসহ আরও কয়েকজন আমাদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।”
তিনি আরও বলেন, “জবাব চাইলে শামিম হুমকি দেয় গুলি করে মেরে ফেলবে। এরপর মজিবুর লোহার রড দিয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং জোরপূর্বক আনন্দ টিভির স্টিকারযুক্ত একটি মাইক্রোবাসে (নং: ঢাকা মেট্রো-চ ১৩-৬২২২) তুলে নেয়। আমাদের মোবাইল, ডিএসএলআর ক্যামেরা ও পকেটে থাকা ৪৩,১২০ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।”
অপহরণের সময় আশপাশের জনতা গাড়ির গতিরোধ করে জানতে চায় কোথায় নেওয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেরানীগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক শাফায়াত হোসেন ঢালি ও স্থানীয় জনতা সাংবাদিকদের উদ্ধার করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা চিকিৎসা নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন:
১. মো. মজিবুর রহমান (৫৫), পিতা: আমীর আলী, সাং: বটতলী, থানা: দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জেলা: ঢাকা (স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত)।
২. মো. শামিম (৪০), পিতা: অজ্ঞাত।
৩. মো. সনেট (৩৫), পিতা: অজ্ঞাত।
এছাড়া অভিযানে অংশ নেয় আরও ১০–১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মজিবুর রহমান এর আগেও একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জে একটি ছাত্র হত্যা মামলাও রয়েছে (সি.আর. মামলা নং: ১০৫৫/২০২৪)।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”