রুমন জোয়ার্দ্দার জনি (বিশেষ প্রতিনিধি):
শুক্রবার (২৭ জুন) দুপুরে সারাদেশের মতো করে ঢাকার সাভারেও প্রায় ৪’শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা উপস্থিত হন এই রথযাত্রায়। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণর করে ভক্তরা পাটের রশি ধরে টেনে নিয়ে যান রথটি। এই উৎসব শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি মিলনমেলাও বটে, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষজন একত্রে আনন্দ উপভোগ করেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের অন্যতম প্রধান এই উৎসব নাচ গানের মধ্য দিয়ে পালন করেন। এই উৎসবে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা রোড দিয়ে বের হওয়ার সময় রথ শোভাযাত্রার জন্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলেও বিভিন্ন দূরপাল্লার গাড়ির যাত্রীগণ বিষয়টি বেশ উপভোগ করেন। রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে পূজা-অর্চনা করা হয় এবং ভক্তরা রথের দড়ি ধরে টানেন, যা তাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে বলে বিশ্বাস করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের পালনকর্তা। তার কৃপা লাভের আশায় ভক্তরা প্রতি বছর তাকে রথে বসিয়ে শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে আয়োজনে ছিল হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ এবং ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে সাভারে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।
রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুল্কপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হয় এই রথযাত্রা। শুক্রবার (২৭ জুন) ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে এই রথযাত্রার মহোৎসব আয়োজন করা হয়েছে সারা দেশে। যা আগামী ৫ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্যদিয়ে শেষ হবে। কথিত আছে, আষাঢ় মাসের শুল্ক দ্বিতীয়ায় বলরাম ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ। সেখান থেকে আবার সাত দিন পর মন্দিরে ফিরে আসেন। এটাকেই জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি যাওয়া বলে। পরপর তিনটি সুসজ্জিত রথে চেপে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে যান জগন্নাথ। এই যাওয়াকে সোজা রথ আর ফিরে আসাকে উল্টো রথ বলে।