ঘুষের কেরানী শাজাহান: ডেমরার কালো টাকার রাজপুত্র

Date: 2025-06-28
news-banner

নিজস্ব প্রতিনিধি: 



ঢাকা জেলার ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস যেন দুর্নীতির দুর্গে পরিণত হয়েছে, আর এই দুর্গের অঘোষিত রাজা সহকারী কেরানী শাজাহান লস্কর। সরকারি সেবাকে পণ্যে পরিণত করে এ কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে জনসাধারণের পকেট কাটছেন নিঃসংকোচে। ঘুষ ছাড়া কোনো দলিল রেজিস্ট্রি হয় না—এ যেন ডেমরার অলিখিত আইন। আর এই আইন রচনার নেপথ্যে যিনি, তিনি কেরানী শাজাহান লস্কর। অভিযোগ আছে, এ কর্মকর্তা শুধুই ঘুষ গ্রহণেই সীমাবদ্ধ নন, বরং সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক দুর্নীতির কাহিনি রচনা করে চলেছেন নির্লজ্জভাবে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কালামপুর ও তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়েই তিনি দুর্নীতির ট্রেনিং দিয়েছেন সহকর্মীদের। ঘুষ বানিজ্যের এমন নিপুণ কারিগর বাংলাদেশে বিরল। তার বিরুদ্ধে সরকারি নথি বিকৃতি, শ্রেণি পরিবর্তনের নামে মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি, মিথ্যা দলিল রচনা, সাধারণ জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়সহ নানাবিধ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি সরকারি অফিসের দেয়ালের আড়ালে নিজস্ব দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।

যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের দলিল রেজিস্ট্রিতে গড়িমসি করে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলেন তিনি। ইচ্ছেমতো ভুল ধরিয়ে দলিল আটকে রাখা তার কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। পরে শুরু হয় ‘চালান না দিলে চালান দেওয়া হবে’ ধাঁচের হুমকি। এরপর যখন ঘুষের পরিমাণ নির্ধারিত হয় এবং তা তার পকেটে পৌঁছায়, তবেই নড়ে অফিসের কাগজপত্র।

তথ্যানুসন্ধানে উঠে এসেছে, শাজাহান লস্করের নামে কিংবা বেনামে রয়েছে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, যার ভেতরে জমা রয়েছে কোটি কোটি টাকার অজানা উৎসের কালো সম্পদ। ঢাকার অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি, রাজকীয় জীবনের অবাধ উপভোগ—এসব কিছুই তার অবৈধ ঘুষ-আয়ের ফসল। অর্থ-রাজনীতির অশুভ বন্ধনে জড়িত থেকে তিনি ক্ষমতাধর এক শ্রেণির সুবিধাভোগী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিজেকে দুর্নীতির জন্য অদৃশ্য নিরাপত্তার বলয়ে রেখে চলেছেন।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু কথিত নেতার সঙ্গে তার গোপন আঁতাত রয়েছে, যার ফলে এই সহকারী কেরানীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। বরং এসব নেতাদের নাম ভাঙিয়ে, তারা নিজেই দালালদের মাধ্যমে দুর্নীতির ঘূর্ণি আরও গভীর করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়িত্ব এখন এই কুখ্যাত দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযান পরিচালনা করা। ঘুষের বিনিময়ে সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্নকারী এই ব্যক্তিকে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত করে, তার যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। আর আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শাজাহান লস্কর জন্ম নেওয়ার সুযোগ না পায়।

সমাজের সচেতন জনগণের একটাই প্রত্যাশা—ডেমরা অফিসে পচনের শিকড় উপড়ে ফেলে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হোক। সময় এসেছে দুর্নীতির এই রাজপুত্রের রাজত্ব ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার।

Leave Your Comments