দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা খুলনা মহানগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কটি এখন ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার প্রতিটি অংশে বড় বড় গর্ত ও খানা-খন্দে ভরা এই ২.১৬ কিলোমিটার সড়কপথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের।
সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে বাইপাস পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন খুলনায় প্রবেশ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৮টি জেলার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। কিন্তু বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই দুর্বিষহ পথে চলাচল করছে সব শ্রেণির মানুষ। চালক, যাত্রী, হেলপার—সবাই নাজেহাল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৩ সালে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটি নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে সেটি আংশিকভাবে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কেডিএর দাবি অনুযায়ী, ১ হাজার ৩৮০ মিটার এলজিইডি এবং ৭৮০ মিটার কেসিসির কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। তবে এ হস্তান্তর নিয়ে এখনও রয়েছে দ্বন্দ্ব ও অনিশ্চয়তা।
কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম বলেন, ‘আমাদের নথিপত্রে কেসিসি সড়ক বুঝে নিয়েছে। যদি কোনো অসংগতি থাকে, আমরা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।’
অন্যদিকে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কাগজে সড়কটির প্রস্থ ৬০ ফুট বলা হলেও বাস্তবে অনেক স্থানে তা ৩৭ ফুটের মতো। ডকুমেন্ট অনুযায়ী বুঝিয়ে দিলে আমরা দ্রুত টেন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করব।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের খুলনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদারও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, ‘সড়কটি জনস্বার্থে দ্রুত সংস্কারের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।’
তবে এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। দফতরগুলোর রশি টানাটানির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।