রাজশাহীতে প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে ২০০ কোটি টাকার আম!

Date: 2025-06-25
news-banner

প্রতিবছর রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় ২০০ কোটি টাকার আম নষ্ট হয়। সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে বাজারজাতকরণ না হওয়ায় পচে যায় ফলগুলো। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। তাই এ অঞ্চলে আম সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি তাদের।


রাজশাহীর বানেশ্বর আড়তে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মণকে মণ আম ফেলে দেয়া হচ্ছে পুকুরে। লোকসান হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। পুরো মৌসুমজুড়ে আড়তগুলোতে হরহামেশাই দেখা মেলে এমন চিত্র।

 
বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আম ফলন হয় নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে। জেলাগুলোতে চলতি বছর প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার আমের বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাগানগুলোতে এখনও থোকায় থোকায় ঝুলছে নানা জাতের আম। গাছ থেকে আম নামানো ও বাজারজাত করার পর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
 

 
বানেশ্বর আমের আড়তদার শামীম হোসেন জানান, সপ্তাহখানেক আগে প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। এ সময় একসঙ্গে অনেক আম পেকে যায়। তবে বাজারে সে অনুযায়ী ক্রেতা ছিল না। এতে একদিকে আমের দাম কমে গেছে অন্যদিকে অনেক আম পচে নষ্ট হয়ে যায়।
 
একইরকম বক্তব্য দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট এলাকার আম ব্যবসায়ী ও আড়তদার নাসির পাটোয়ারী। তবে নওগাঁর আম ব্যবসায়ী ঝন্টু বলেন, বাজারে এখন বিক্রি হচ্ছে ল্যাংড়া আমরুপালি ও ফজলি আম। গরমের কারণে আম উৎপাদনে শীর্ষে থাকা এ জেলায় সবচেয়ে বেশি আম পচে নষ্ট হয়ে গেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা।
 
এ অঞ্চলে আম সংরক্ষণাগার না থাকায় প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের আম পচে নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক সাইফুল ইসলাম হীরক বলেন, আম সংরক্ষণাগার না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে আম নষ্ট হচ্ছে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তাই আম সংরক্ষণের জন্য দ্রুত সংরক্ষণাগার তৈরি করতে হবে।
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত প্ল্যান্ট স্থাপন করে মুখরোচক খাবার তৈরি করা হলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। রাজশাহীর ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আম সংরক্ষণের ওপর জোর না দিয়ে প্রক্রিয়াজাত প্ল্যান্ট স্থাপন করে পাল্প থেকে আচার, জুস, আমসত্ত্ব বা চকলেট তৈরি করা যেতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।‌
 

 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াসিন আলী বলেন, আমকে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা গেলে বাড়বে বাজারমূল্য। এতে লাভবান হবেন আমচাষিরা।
 
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, আম শুকানোর পদ্ধতি ও হট ওয়াটার পদ্ধতি আমের আড়তদার ও চাষিদেরকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। এটি করা গেলে চাষি ও আড়তদাররা দীর্ঘদিন ধরে আম বাজারজাত করার সুযোগ পাবে।
 
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ৪ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন এবং রাজশাহীতে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

Leave Your Comments