গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে শুরু হয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। দুদিনব্যাপী এ সম্মেলন যোগ দিয়েছেন ট্রাম্পও। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যে এবারের সম্মেলনে প্রতিরক্ষা বিষয়ের পাশাপাশি জোটে সদস্য দেশগুলোর প্রদেয় ব্যয়বৃদ্ধি আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
জোটের সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যয়বৃদ্ধির জন্য সদস্য দেশগুলোর উপর চাপ দিয়ে আসছেন। কিন্তু এখন যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে জোটের প্রতিষ্ঠা সেটাতে আপত্তি জানাচ্ছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) এক মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোর চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় সাড়া দেবে কি না, সেটা নির্ভর করছে আপনি কিভাবে অনুচ্ছেদ ৫-এর সংজ্ঞা বা অর্থ করছে তার উপর। তিনি বলেন, অনুচ্ছেদ ৫-এর অনেক সংজ্ঞা হতে পারে। তবে আমি তাদের বন্ধু হতে চাই।’
ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ হলো একটি নিরাপত্তা বিষয়ক ধারা যা জোটের সনদের একটি অংশ। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের উপর সশস্ত্র হামলা হলে, তাকে জোটের সকল সদস্য রাষ্ট্রের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত সদস্য রাষ্ট্রকে সামরিক বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। এটি ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
তবে জোটের এই মূল ভিত্তি নিয়ে এক প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘জীবন বাঁচাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। তবে এ নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট অবশ্য বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ন্যাটোর পাশে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ন্যাটোর অন্য সদস্য দেশগুলোকে জোটের জন্য প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে হবে। ট্রাম্প চাচ্ছেন, দেশগুলো তাদের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় খরচ করুক। বেশিরভাগ দেশই এখন জিডিপির ২ শতাংশ খরচ করছে।
তারা বলছে, ব্যয় ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা তাদের জন্য কঠিন। যদিও ন্যাটো মহাসচিব এক বার্তায় ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, জোটের সকল সদস্য প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় সম্মত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের অনেক দেশ এখন নিজেদের সেনাবাহিনী শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। কারণ পশ্চিমা নেতারা রাশিয়াকে বড় ‘হুমকি’ বলে মনে করছেন। জার্মান চ্যান্সেলর বলেছেন, জার্মানি ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী তৈরি করবে।
রাশিয়ার মুখপাত্র পেসকভ বলেন, ন্যাটো এখন আর শান্তির জন্য কাজ করছে না, বরং তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়া কাউকে আক্রমণ করতে চায় না। কিন্তু ন্যাটো সব সময় রাশিয়াকে খারাপভাবে দেখাতে চায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় অন্য দেশগুলো যেন আরও বেশি প্রতিরক্ষা খরচ করে। ইউরোপের দেশগুলোও এখন নিরাপত্তা নিয়ে বেশি সচেতন। আর রাশিয়া বলছে, ন্যাটো এখন শান্তির বদলে সংঘাত তৈরি করছে।