প্রকৌশলী ফয়েজুল ইসলাম” এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ

Date: 2025-06-24
news-banner

স্টাফ রিপোর্টারঃ

জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন ২০১২ সালের আগষ্টে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর “ডিপিএইচইতে” যোগদান করেন। 



যোগদানের পর থেকে তিনি ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। একাধারে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন যাবত অবস্থান করায় প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ক্ষুন্ন ও ব্যতিক্রম ঘটেছে। নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়েজুল ইসলাম সুমন প্রকল্পের অর্থ লুটপাট ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করেছেন। ভবন মেরামত, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও টেন্ডারে ১০ পার্সেন্ট হারে ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন ওই কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে তিনি “ওহী ট্রেডাস” নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকার টেন্ডার বানিজ্য চালান।




 এছাড়া তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি লাইসেন্স বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন ২৮ তম বিসিএস পরীক্ষা ২০০৮ এ অংশ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের বিজ্ঞপ্তি নং বাসককস/পঃনিঃ(ক্যাডার) শাখা/১২১, তারিখ ০২/০৯/২০০৯ অনুযায়ী উক্ত রেজিষ্ট্রেশনধারী শুধুমাত্র সাধারণ ক্যাডারে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি টেকনিক্যাল ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। ফলে তাকে বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার কোন আইনি ভিত্তি কিংবা সুযোগ ছিলনা। 




পরবর্তীতে তিনি গত ০৮/০৫/২০১১ তারিখে নন- ক্যাডার পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। কিন্ত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে তৎকালীন সময় সাবেক মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম ও বিতর্কিত তৎকালীন যুগ্ন সচিব মোঃ খাইরুল ইসলাম এর যোগসাজশে অবৈধভাবে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি প্রথমবার বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হন। প্রক্রিয়াটি এতটাই বিতর্কিত ছিল যে, বিসিএস নিয়োগ বিধি সংশোধন না করেই এটি সম্পন্ন করা হয়। যদিও পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক উক্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। প্রাক্তন পলাতক মন্ত্রী তাইজুল ইসলাম এবং খাইরুল ইসলাম এর যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ২০২২ সালের ১৫ জুন দ্বিতীয়বার তাকে বিসিএস (প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 




এই নিয়োগ আদেশে কোন প্রকৃত যোগদান পত্র ছাড়াই তাকে রাজস্ব খাতে যোগদানের তারিখ হতে ভূতাপেক্ষভাবে ক্যাডার ভুক্ত করা হয়, যাহা বিসিএস চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকে) অভিযুক্ত  বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সদস্য ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ অর্ধ কোটি টাকার বিনিময়ে মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমনকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখার প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০১৭.২১.৯৭, তারিখ ১৮/০৪/২০২৩ এর বিধি ৮, উপবিধি (৪) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উক্ত বিধিতে বলা হয়েছে “নবনিয়োগ প্রাপ্ত কোন কর্মচারী চাকরিতে স্থায়ী না হলে ও শিক্ষা নবীশকাল পূর্ণ না হইলে তাহাদের চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যাইবে না” স্থানীয় সরকার বিভাগের স্মারক নং স্থাসবি /পাস-১/বনিপ-১২/৯৯ (অংশ) /৮৬১,তারিখ ১১/০৯/২০১৩ অনুযায়ী মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন নন-ক্যাডার পদে স্থায়ী হন। তবে বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ক্যাডার পদে চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ এর পাশাপাশি বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। 





কিন্তু তিনি কোন প্রকার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কিংবা বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। ফলে তার ক্যাডার পদে চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। ইতিপূর্বে মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ এবং বিভাগীয় পরীক্ষার শর্ত পূরণ না করেই সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষা, আগস্ট ২০২৪ সালে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে আবেদন করেন। কিন্তু বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ক্যাডার পদে ন্যূনতম চার বছর চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ না করায় তার আবেদন বাতিল করা হয়। অথচ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তিনি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ বিভাগীয় পরীক্ষা ও সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষা ব্যতীত নির্বাহী প্রকৌশলী (৫ম গ্রেড) পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। এদিকে সরাসরি বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে যোগদানকারী ও পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণকারী ১০ জন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এমতাবস্থায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল সহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা। অভিযুক্ত মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন কেবলমাত্র  আইনের লঙ্ঘনই করেননি বরং তিনি যোগ্য কর্মকর্তাদের প্রতি চরম অবিচার করেছেন।




অভিযুক্ত  মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন কর্তৃক অবৈধ প্রক্রিয়ায় সুযোগ গ্রহণ ও শর্ত লঙ্ঘন করায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব অবিলম্বে স্থগিত করার নিমিত্তে জনস্বার্থে দাবি জানিয়েছেন ঢাকা, মাটিঘাটা, কালশি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মোঃ ফারুখ হোসেন। তিনি গত ১১মে ২০২৫ তারিখ মাননীয় উপদেষ্টা,অভিযোগ নিস্পত্তি কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 



এ বিষয়ে প্রকৌশলী  ফয়জুল ইসলাম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। বিস্তারিত আসছে খুব শীঘ্রই।

Leave Your Comments