স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয়েছেন এক বৃদ্ধা নারী। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে। হামলার শিকার ৬০ বছর বয়সী ফজিলা খাতুন, স্থানীয় আলাউদ্দিনের স্ত্রী ও দীর্ঘদিন ধরে বনবিলাশ এলাকার পেছনে একটি মুদির দোকান পরিচালনা করে আসছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার কুখ্যাত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া (৪০) দীর্ঘদিন ধরে দোকান থেকে বাকিতে মালামাল নিয়ে এলেও ১৫০০ টাকার দেনা শোধ না করে নানা অজুহাতে ফজিলা খাতুনকে ঘুরাতে থাকেন। ঘটনার দিন মিন্টুকে দোকানের সামনে পেয়ে পাওনা টাকা চাইলে সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বৃদ্ধাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। প্রতিবাদ করায় মিন্টু ক্ষিপ্ত হয়ে দোকান থেকে ফজিলাকে টানাহেঁচড়া করে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি-লাথি মারতে থাকে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও জখম হয়।
হামলার এখানেই শেষ হয়নি। মিন্টু মিয়া দ্রুত বাড়িতে গিয়ে একটি লোহার শাবল হাতে নিয়ে ফিরে এসে দোকানের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার উদ্দেশ্যে ফজিলার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। হামলার সময় দোকানের মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে মিন্টু।
বৃদ্ধার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারী পালিয়ে যায়। পরে আহত ফজিলাকে তার ভাগ্নে জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মাথায় কয়েকটি সেলাই ও ব্যান্ডেজ দেয়া হয় এবং বুকের এক্স-রে করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিন্টু মিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে সে পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এমন নিষ্ঠুরতার শিকার হওয়া এক নারী ব্যবসায়ীর জন্য এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।