ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হিলি স্থলবন্দর পানামা পোর্টের শ্রমিকরা। শনিবার (২১ জুন) সকাল ১০টা থেকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেন। কর্মবিরতির ফলে বন্দরের পণ্য লোড-আনলোডসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্দরে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় আমদানিকারক এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
বন্দরের একজন শ্রমিক হাফিজুর রহমান জানান, হিলি পানামা পোর্ট শুরু থেকে আমরা কাজ করে আসছি। প্রথমদিকে তিনদিন ন্যায্যমূল্য পেয়েছি, এরপর থেকে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। অনেকবার পানামা কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের লেবার সদ্দাররা বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
অপর শ্রমিক সেকেন্দর আলী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও আমরা শ্রমিকরা ন্যায্য মূল্য পাই না। প্রতি টন আমাদেরকে মাত্র ১৩ টাকা দেওয়া হয়, অথচ আমদানিকারক থেকে বন্দরের কর্তৃপক্ষ ৭৩ টাকা নিচ্ছে। খৈলসহ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বিল তো দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই বৈষম্য কেন চলতে দেয়া হচ্ছে? আমাদের ন্যায্য মজুরি না দিলে কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।'
অন্যদিকে কর্মবিরতির কারণে আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রামপ্রসাদ নামে একজন পাইকার বলেন, 'আমি সকালে হিলি বন্দরে মসুর ডাল নিতে এসেছিলাম, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে লোড করতে পারিনি। আজ লোড না হলে আমাকে ৩ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া দিতে হবে।'
এ বিষয়ে পানামা পোর্টের লেবার সর্দার আলম বলেন, 'বন্দরের শ্রমিকরা ন্যায্য দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানাচ্ছিল। প্রতি টন ১৩ টাকা পেয়েও বিল বৃদ্ধির দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করছে। তবে পানামা পোর্টের এমডির সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি বন্দরে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং সমাধানের চেষ্টা করবেন।'
হিলি স্থলবন্দর পানামা পোর্টের অপারেশন ম্যানেজার অসিত কুমার শ্যানাল বলেন, 'শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন, বিষয়টি পানামা পোর্টের এমডি স্যারকে জানানো হয়েছে। তিনি বিকেল পাঁচটায় বন্দরে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাদের দাবি সম্পর্কে আলোচনা করবেন।'