হাসিনা কাদের সালমান সাবের ও শামীমসহ ৭৯ জনের নামে হত্যাচেষ্টা মামলা
আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন
চলাকালে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন পল্লীমা স্কুলের সামনে আহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনাসহ ৭৯ জনের নামে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি করেছেন ঐ ঘটনায় আহত সোহেল (৩৪) নামের এক পরিবহন শ্রমিক। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলামের আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এছাড়া অন্যান্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর
উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান,
সাবের হোসেন চৌধুরী ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদসহ ৭৯ জন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন শহীদ বাকি সড়ক খিলগাঁও আবাসিক এলাকায় পল্লীমা স্কুলের সামনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যুক্ত হন পরিবহন শ্রমিক সোহেল। এদিন মিছিল করার সময় পল্লীমা স্কুল হতে খিলগাঁও থানার দিকে যাওয়ার পথে তালতলা মার্কেটের সামনে থেকে সরকার দলীয় সমর্থকসহ পুলিশ ছাত্র-জনতার দিকে ইট-পাটকেল, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, ছররা গুলিসহ সাউন্ড গ্রেনেড চার্জ করে। এসময় পল্লীমা স্কুলের সামনে গুলিতে আহত হন সোহেল। তার ডান হাতে এবং কপালে গুলি লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নেয়ার পর তার শরীর থেকে ১ টি গুলি বের করা হলেও অপর গুলিটি থেকে যায়।
আইনজীবী
আমানুল করীম বলেন, পরিবহন শ্রমিক সোহেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে চররা গুলি লাগে। দীর্ঘ
দিন উনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এখনো উনি পুরোপুরি সুস্থ নন। এরপরও আজ তিনি নিজেই মামলা
করতে এসেছেন। উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা
ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে ভারত গিয়ে আশ্রয় গ্রহন করেন।