ডিমলায় ভিজিএফ চালের হরিলুট: অনিয়ম ঢাকতে এমপি প্রতিনিধিকে ‘ঘুষ’ ও জাতীয় পতাকার অবমাননা!সাব-শিরোনাম: নির্ধারিত সময়ের আগেই পতাকা নামিয়ে পরিষদে তালা দিয়ে পালালেন প্যানেল চেয়ারম্যান। ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ-এর চাল বিতরণে দুর্নীতির মহোৎসব চলেছে। অনিয়ম ধামাচাপা দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিকে ঘুষের প্রস্তাব এবং রাষ্ট্রীয় বিধি লঙ্ঘন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে এই চাল বিতরণের সময় প্রকাশ্যেই অনিয়ম চলতে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ ও পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে জনৈক এক ব্যক্তি একাই ৩৫টি কার্ডের বিপরীতে ৩৫০ কেজি চাল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডধারী পরিবারের স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে চাল গ্রহণ করার কথা থাকলেও এখানে নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি।

বিতরণের দায়িত্বে থাকা গ্রামপুলিশ আইনুল ইসলাম জানান, "অনেকগুলো বস্তা একসাথে নিয়ে এসেছে দেখে আমার সন্দেহ হয়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেন, 'আমি প্যানেল চেয়ারম্যানের লোক। চেয়ারম্যান ৩৫ টি পরিবার কে কার্ড দিয়েছে। তারা আসেনি, আমি তাদের চাল নিয়ে যাচ্ছি'।"

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ব্যাপক অনিয়ম ধামাচাপা দিতে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস সাত্তারের প্রতিনিধি মোঃ সাইফুল্লাহকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এমপি প্রতিনিধি সাইফুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "এমপি মহোদয়ের নির্দেশে আমি বিতরণ পরিস্থিতি তদারকি করতে যাই। এখানে ছোট- বড় অনেক অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ জানাই। এরপর আমাকে মুখ বন্ধ রাখার বিনিময়ে ২০ বস্তা চাল দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। আমি ঘৃণাভরে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।"

রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলিত রাখার বিধান থাকলেও, জনরোষ থেকে বাঁচতে ওইদিন বিকাল ৪ ঘটিকার পূর্বেই পতাকা নামিয়ে ফেলা হয়। স্থানীয়রা জানান, চাল চুরির ঘটনা জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়ার ভয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান তড়িঘড়ি করে পতাকা নামিয়ে পরিষদে তালা ঝুলিয়ে চম্পট দেন। একজন জনপ্রতিনিধির এমন পলায়নপর মনোবৃত্তি এবং জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

প্যানেল চেয়ারম্যান আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে লেবার ও পরিবহন খরচের অজুহাতে আরও ৪৫ বস্তা চাল সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। যেখানে হতদরিদ্র মানুষ একবেলা খাবারের জন্য সংগ্রাম করছে, সেখানে গরিবের হক এভাবে লুটপাটে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আতিকুর রহমান মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বিকার করে গনমাধ্যমকে বলেন "এগুলো বিষয়ে আমি কোন কিছু জানিনা, কেউ আমাকে কোন কিছু বলেও নাই, আর আমি কোথাও কোন কিছু শুনিও নাই, এই এখন আপনার কাছে শুনলাম।" 

 বিতরণ তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ভিজিএফ বিতরণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। বিশেষ করে জাতীয় পতাকা নামানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মর্যাদা নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।