যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে পালালেন সেলুনকর্মী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় যৌতুকের টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে মারধর, ছুরিকাঘাত ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিম আক্তার (৩০)। তিনি আখাউড়ার আজমপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে এবং রামধননগর গ্রামের দ্বীন ইসলাম ওরফে দিনু মিয়ার স্ত্রী। ২০১৯ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তাদের সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বামী দ্বীন ইসলাম পেশায় একজন সেলুনকর্মী এবং বর্তমানে নরসিংদীতে কাজ করেন। কিছুদিন ধরে তিনি স্ত্রী মিমের কাছে নতুন সেলুন ব্যবসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দেওয়ায় দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে স্বামী নরসিংদী থেকে শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং পরদিন সকালে আবারও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে তিনি স্ত্রীকে মারধর করেন এবং পরে মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যান।

পরে বিকেলে মোবাইল ফেরত দেওয়ার কথা বলে মিমকে বাড়ির কাছের একটি স্থানে ডেকে নেন স্বামী। সেখানে গেলে তাকে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় নাকে ঘুষি, শরীরে আঘাত এবং একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করা হয়। পরে চুল কেটে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।

পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিমকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী মিম আক্তার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় মারধর করতেন। এর আগেও কয়েক দফায় তাকে অর্থ ও স্বর্ণালংকার দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মিম।

এদিকে অভিযুক্ত স্বামী দ্বীন ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।