আব্দুল কাইয়ুম (আরজু), পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বুধবার (২২ এপ্রিল) দিনভর পৃথক তিনটি ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে অনুমোদনহীন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলগালা, পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে তিনটি ইটভাটায় ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং দীর্ঘ ১৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার পৌর শহরের গার্লস স্কুল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত অনির্বাণ মডেল স্কুল সিলগালা করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
জানাগেছে, ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কোনো সরকারি অনুমোদন নেই এবং তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও রেজিস্ট্রেশন করায়নি।
পরে বুধবার বিকেলে ইউএনও নিজে গিয়ে স্কুলটি সিলগালা করেন এবং এর সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার প্রক্রিয়া নেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে উপজেলার নাচনাপাড়া এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তামিম নূর ইসলাম। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অমান্য করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের জরিমানা করা হয়।
দেশ ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা জরিমানা। সেই সাথে তাদের চিমনি ও কাঁচা ইট গুঁড়িয়ে দিয়ে কার্যক্রম চিরতরে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এবং ভাই ভাই ও বিসমিল্লাহ ব্রিকস নামের এই দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক লোভানা জামিল জানান, পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একইদিন সকালে গত ১৬ দিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা কলাপাড়ার ধানখালী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খুলে দিয়েছে প্রশাসন। গত ৬ এপ্রিল থেকে শিক্ষকরা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে কক্ষে তালা ঝুলিয়েছিলেন।
বুধবার বেলা ১১টা ইউএনও কাউছার হামিদ কলেজ পরিদর্শন করে তালা খুলে দেন। পরে শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করার নির্দেশ দেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন,"আমরা শিক্ষা ও পরিবেশ নিয়ে কোনো আপস করব না। একদিকে যেমন প্রতারক চক্রের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডও রুখতে হবে। ধানখালী কলেজের প্রশাসনিক সংকট নিরসনেও আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি।"