ই-সিগারেট নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপান্তরের আহ্বান

মোঃ আতিকুর রহমান, ক্রাইম রিপোর্টার:

ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ উদীয়মান তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বহাল রেখে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব পণ্যকে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের পাশে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটসহ ১৬টি তামাকবিরোধী প্ল্যাটফর্মের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্ষতিকর ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করা হোক’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ কিশোর-তরুণদের জন্য নতুন ধরনের আসক্তির ঝুঁকি তৈরি করছে এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী অধ্যাদেশ ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত ইমার্জিং তামাক পণ্য নিষিদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাতিলের অপচেষ্টা চলছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে দেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার ০.০২ শতাংশেরও কম এবং নিকোটিন পাউচের ব্যবহার নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে এখনই কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা গেলে ভবিষ্যতে এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় এটি দ্রুত তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা উল্লেখ করেন, ‘কম ক্ষতিকর’ তকমা দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেটকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবে এটি নিকোটিন আসক্তি সৃষ্টি করে এবং ফুসফুস, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়—যা একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণিত। নিকোটিন পাউচেও সিগারেটের তুলনায় বেশি নিকোটিন থাকতে পারে বলে সতর্ক করেন বক্তারা।

কর্মসূচিতে আরও জানানো হয়, বিভিন্ন ফ্লেভার, আধুনিক ডিজাইন, সহজ ব্যবহারযোগ্যতা এবং চটকদার বিজ্ঞাপনের কারণে এসব পণ্য তরুণদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এতে কিশোরদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এমনকি ই-সিগারেট ডিভাইস ব্যবহার করে মাদক গ্রহণের ঘটনাও বাড়ছে, যা নতুন এক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বক্তারা বলেন, বিশ্বের ১৩২টি দেশ ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করেছে এবং অন্তত ৪১টি দেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে, যার মধ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ১১টি দেশে নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ এবং ৩৪টি দেশে নিয়ন্ত্রিত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

তারা আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে লক্ষ্য করে তামাক কোম্পানিগুলো নতুন বাজার তৈরির চেষ্টা করছে। তাই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই শক্তিশালী আইনগত কাঠামো বজায় রাখা প্রয়োজন।
কর্মসূচি থেকে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, জনস্বার্থ ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের ধারা বহাল রেখে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত জাতীয় সংসদে পাস করতে হবে।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ হেলাল আহমেদ, নীতি বিশ্লেষক আমিনুল ইসলাম বকুল, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ একেএম মাকসুদ, অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু নাসের অনীক, তামাক বিরোধী নারী জোটের সমন্বয়ক সীমা দাস সীমু, সংস্কৃতি কর্মী হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, গবেষক ফারহানা জামান লিজা, সামিউল হাসান সজীব, ইব্রাহীম খলিল ও মিঠুন বৈদ্যসহ আরও অনেকে।

কর্মসূচি পরিচালনা করেন জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মী মো. আবু রায়হান।